সুনামগঞ্জে কাজি নজরুলের সুবর্ণ প্রয়াণতিথিতে সুর ও কবিতার অর্ঘ্য
কবির প্রয়াণ হলেও তাঁর অমর সৃষ্টি আর সুরের ঝরনাধারা বিলীন হয়নি স্মৃতির অতলে; বরং সুবর্ণ প্রয়াণবর্ষে তিনি আরও বেশি অমলিন, আরও বেশি ভাস্বর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে "আমারে দেবো না ভুলিতে" শীর্ষক আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর (পাবেল) সভাপতিত্বে এবং শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক সৌরভ অধিকারী অয়নের প্রাঞ্জল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও বিশিষ্টজনেরা নজরুল-দর্শনের আলোকচ্ছটা নিয়ে আলোচনা করেন।
স্মরণসভায় অতিথির বক্তব্যে আলোচনায় অংশ নেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকির হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন, স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান শামীম এবং প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী ছানাগোপাল সরকার।
আলোচকেরা বলেন, নজরুল ছিলেন দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মহাজাগরণী চেতনার এক প্রদীপ্ত প্রবাদপুরুষ। অন্যায়, অসাম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর অমর সুর ও বাণী আজও বাঙালি জাতিকে অশুভের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অসীম সাহসিকতা জুগিয়ে চলেছে। কবির প্রয়াণের অর্ধশতকে তাঁর শাশ্বত দর্শন ও মনন নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন বক্তারা।
আলোচনা পর্বের পর হাসন রাজা মিলনায়তনে নেমে আসে সুর ও কবিতার মোহনীয় অবাহ। জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের পরিবেশনায় কবির কালজয়ী কবিতা আবৃত্তি ও ক্ষুরধার নজরুলসংগীতের মূর্ছনায় উপস্থিত সুধীসমাজ বিমোহিত হন। অনুষ্ঠানে শহরের প্রবীণ ও নবীন সংস্কৃতিপ্রেমী, বুদ্ধিজীবী এবং সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: