৬০ এ পা দিয়েই কেন ক্ষমা চাইলেন জাহিদ হাসান?

৬০ এ পা দিয়েই কেন ক্ষমা চাইলেন জাহিদ হাসান?

প্রথম ডেস্ক

০৪/১০/২০২৬ ১৫:২১:৪৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ষাটে পা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬, মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের এই শিল্পীর ৬০তম জন্মদিন।

নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া জাহিদ হাসান এখনো অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শককে হাসান-কাঁদান।

তবে বয়সের এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকে ফিরে দেখছেন অন্যভাবে। অতীতের ভুল, অনুতাপ, পাওয়া-না পাওয়ার হিসাবের পাশাপাশি এখন তার ভাবনায় রয়েছে মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা।

পরিবারের সব ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট জাহিদ হাসান। বয়স ৬০ হলেও পরিবারের কাছে সেই ছোট ছেলেটিই রয়ে গেছেন তিনি। এ কারণেই নিজের বয়সটাও অনেক সময় তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়।

জাহিদ বলেন, ‘অনেকের কাছে আমি বড় হলেও পরিবারের সবার ছোট, তাই আজীবনই সবার কাছে ছোটই থেকে গেলাম। বয়স যে এতটা বেড়েছে, তা ভাবনার মধ্যে আসে না।’

জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের ভুল নিয়েও খোলামেলা কথা বলছেন এই অভিনেতা। অতীতের কিছু কাজ নিয়ে তার অনুতাপ রয়েছে। তবে সেই ভুলকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘জীবনে অনেক ভুল করেছি। মানুষ ভুল করবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমিও মানুষ। বিগত দিনের ভুলের জন্য কিংবা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত। আগামী জীবনটা যেন মানুষের জন্য কিছু করতে পারি। জীবনটা যেন মানুষের কাজে আসে।’

নিজের সাফল্যকে একা উপভোগ করার চেয়ে সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার বিষয়টিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উন্নতির সঙ্গেও তিনি এই ভাবনাকে যুক্ত করেছেন।

জাহিদ বলেন, ‘আমি সব সময় চেয়েছি, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে। সেই চেষ্টা এখন আরও বেশি। আমার কাছে মনে হয়, সবাইকে নিয়ে এগোনোর চিন্তা করলে দেশেরও উন্নতি হবে।’

তবে ৬০ বছরের এই জীবনের পেছনে ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের পথ। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পর শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। থিয়েটারে কাজ করার সময় দলের ঘর মোছা থেকে শুরু করে নানা কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। পরে গড়ে ওঠে নাট্যকেন্দ্র।

ঢাকায় আসার পর মেসজীবনও ছিল তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ১৯৮৯ সালের একটি জন্মদিনের কথা এখনো মনে আছে তার। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরের একটি মেসে তখন চার-পাঁচজন মিলে একটি ঘরে থাকতেন। জন্মদিনের দিনও অন্য দিনের মতোই ঘর পরিষ্কার করছিলেন তিনি।

রান্নার জন্য বুয়া থাকলেও সব সময় খাবার ভালো হতো না। তাই অনেক সময় নিজেরাই ভাজি-তরকারি রান্না করে খেতেন। সেই সময়ের এক জন্মদিনে মেসের এক রুমমেটের বাবা, যিনি পেশায় আইনজীবী ছিলেন, জাহিদের জন্মদিনের কথা শুনে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘মন খারাপ কোরো না পুলক (জাহিদ হাসানের ডাক নাম), এমন একটা দিন আসবে, যেদিন সারা দেশের মানুষ তোমার জন্মদিন পালন করবে।’

পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকায় যখন তাঁর জন্মদিন নিয়ে আলোচনা হতে শুরু করে, তখন সেই মানুষটির কথাই মনে পড়ে জাহিদের।মেসজীবনের কষ্টকে অবশ্য নেতিবাচকভাবে দেখেন না এই অভিনেতা। বরং সেই সময়ের অভিজ্ঞতাই তাঁকে জীবনের অনেক কিছু শিখিয়েছে বলে মনে করেন।

জাহিদের কথায়, ‘কষ্টের মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে, আবার কষ্টের মধ্যে অশান্তিও আছে। জীবনে কোনো কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তাই কষ্টের পরের সুখটা আসলে অন্য রকম।’

সেই সময় থেকেই ছাড় দেওয়া, ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং একসঙ্গে থাকার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে। মেসজীবনের একটি মজার ঘটনাও মনে আছে তার।বাথরুমে সাবান-শ্যাম্পু রেখে এলে অন্যরা সেগুলো ব্যবহার করতেন। এতে তার কোনো আপত্তি ছিল না। বরং একসঙ্গে থাকার জীবনে এটিকেই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখতেন তিনি।

ছোটবেলার জন্মদিনের ছবিটাও ছিল একেবারেই আলাদা। পরিবারের ছোট ছেলে হওয়ায় জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন থাকত। মা পায়েসসহ নানা খাবার রান্না করতেন।কেক আসত, সঙ্গে থাকত চানাচুর, কলাসহ আরও অনেক কিছু। ঢাকায় এসে মেসজীবনের সেই দিনগুলোর সঙ্গে যার কোনো মিল ছিল না।

এখন অবশ্য পরিবার নিয়ে জাহিদের জীবনও বদলেছে। দুই সন্তানের বাবা তিনি। বড় মেয়ে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পড়ছেন। ছেলে এ লেভেল শেষ করেছেন। শিগগিরই তিনিও উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাবেন বলে জানিয়েছেন জাহিদ।

দেশের বাইরে থাকা মেয়েকে প্রায়ই মনে পড়ে তার। ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় সে যখন বলে, ‘বাবা, এই খাবারটা মিস করছি, তোমাকে মিস করছি, বাসার সবাইকে মিস করছি’- তখন মন খারাপ হয়ে যায় জাহিদের। মেয়ের কথা মনে করে কখনো কখনো কান্নাও পায় তার।

জাহিদ নিজেও স্বীকার করেন, তিনি আবেগপ্রবণ মানুষ। ভালো কিছু শুনলেও তার চোখে পানি আসে। আবার কারও কষ্ট দেখলে আরও বেশি আবেগতাড়িত হন।

৬০ বছরে এসে তাই জাহিদ হাসানের কাছে বয়সের হিসাবটা শুধু সংখ্যায় আটকে নেই। মেসজীবনের কষ্ট, অভিনয়ের দীর্ঘ পথ, পরিবারের ভালোবাসা, নিজের ভুল এবং মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা- সব মিলিয়েই এখন তাঁর কাছে জীবনের নতুন অধ্যায়।

পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad