সিলেটের যে ২ জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হামের সংক্রমণ!

সিলেটের যে ২ জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হামের সংক্রমণ!

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৫/১০/২০২৬ ১৬:০২:৩৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার কোনো লক্ষণ মিলছে না। প্রতিদিন নতুন নতুন আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে। চিকিৎসা না পেয়ে, দেরিতে হাসপাতালে আসায় এমনকি চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও চলতি বছর প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮২ জন। বিপরীতে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৫ অক্টোবর) পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে—বিভাগে নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫০ জন সন্দেহজনক হামের রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৫৬ জন রোগী। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (২৮৬ জন) ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে (১৩২ জন)। এছাড়া সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালেও বিপুল সংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১ হাজার ৮১ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ৪০৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন শনাক্ত হয়ে শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় ১৫৮ জন করে রোগী নিশ্চিত হওয়া গেছে। হবিগঞ্জে আক্রান্তদের মধ্যে দুজনের শরীরে রুবেলার উপস্থিতি মেলে।

যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে চলতি বছর হাম ও এর আনুসঙ্গিক জটিলতায় সিলেট বিভাগে মোট ১৮২ জন মারা গেছেন—যার মধ্যে সন্দেহজনক ১৭২ জন এবং নিশ্চিত ১০ জন। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর চিত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সিলেটে (৭৩ জন) ও সুনামগঞ্জে (৬৬ জন)।

বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্য কর্মীদের মতে, টিকাদানে অসচেতনতা ও প্রান্তিক এলাকায় দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া সংক্রমণের এমন ব্যাপকতার মূল কারণ। বর্তমানে হাসপাতালে সাধারণ শয্যার সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা। দ্রুততম সময়ে বাড়ি বাড়ি টিকাদান জোরদার এবং প্রাথমিক অবস্থাতেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী না আনলে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad