সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রশাসনিক জটিলতা, নাগরিক ভোগান্তি চরমে
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৪২টি ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় চরম নাগরিক সেবা সংকটে পড়েছেন সাধারণ নগরবাসী। ওয়ার্ডগুলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও দ্বৈত দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাভাবিক সেবামূলক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে সিসিকের মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ থেকে অপসারণের পর প্রশাসকের অধীনে কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে নাগরিক সেবা সচল রাখতে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের প্রশাসনিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ১৪ জন কর্মকর্তার ওপর। তবে নিজেদের মূল দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে সেবা প্রদানে চরম বিলম্ব ঘটছে।
সেবাগ্রহীতাদের তথ্য অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদ এবং নাগরিকত্ব প্রত্যয়নপত্রের মতো জরুরি দাপ্তরিক সনদ সংগ্রহ করতে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একাধিক ওয়ার্ডে অনলাইন সেবা পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করতে গিয়ে যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে। এছাড়া কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থাকতে না পারায় সনদপত্র পেতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বর্জ্য অপসারণ, সড়ক মেরামত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকিতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
বিদ্যমান এ সংকট নিরসনে অতি দ্রুত সিসিকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও নাগরিক সেবা সহজীকরণে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ বাসিন্দারা।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: