সিলেটে ঝোঁপে-জঙ্গলে মিলছে অস্ত্র, বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সিলেটজুড়ে ততই বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ঝোঁপঝাড় ও জঙ্গল থেকে একের পর এক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে এলেও বড় ধরনের সাফল্য দেখাতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে গত জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ও সরকার পতনের সময় ব্যবহৃত কিংবা লুট হওয়া অধিকাংশ আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিদিন রাতের আঁধারে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান হচ্ছে। এসব অস্ত্র স্থানীয়ভাবে মজুত রেখে নির্বাচনের সময় ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, চোরাই অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করা না গেলে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর প্রথম ধাপ শেষে বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও জুলাই আন্দোলনে ব্যবহৃত অস্ত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত বছরের ৫ আগস্টের আগে আন্দোলনকারীদের দমাতে সরকার–সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন। সে সময় এম-১৬ রাইফেলসহ ভারী অস্ত্র ব্যবহারের দৃশ্য বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেলেও চিহ্নিত অস্ত্রধারীদের কাউকেই এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
সরকার পতনের পর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পাঁচ শতাধিক অস্ত্র লুট হয়। পুলিশ জানায়, এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০৩টি অস্ত্র এবং ১৭৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঝোপ থেকে দুটি বস্তায় রাখা ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করে র্যাব। একইভাবে গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও গুলি উদ্ধার হলেও অভিযানের সময় কাউকে আটক করা যায়নি।
র্যাবের হিসাবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সিলেট বিভাগে ৩২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০০ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, প্রায় পাঁচ কেজি বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর ও একটি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন আখতার বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। এসব অস্ত্র আগামী নির্বাচনে সহিংসতার কারণ হতে পারে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনো কিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময়ের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে অস্ত্রধারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: