সুনামগঞ্জে সরকারি জমি কেটে লুট: উৎকোচে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শিললুয়ার হাওরে সরকারি খাস জমি ও জনসাধারণের চলাচলের ‘গোপাট’ থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা দেওয়ার পরও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ কমেনি। অভিযোগ উঠেছে, নামমাত্র জরিমানা করা হয়েছে, কিন্তু এই বড় সিন্ডিকেটের মূল হোতারা এখনো ধরা পড়েননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে শিহাব মিয়া, টুনু মিয়া ও মুকিত মিয়ার নেতৃত্বে এক চক্র শিললুয়ার হাওরের বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে এস্কেভেটর ব্যবহার করে মাটি কাটছিল। পুলিশ ৮ জানুয়ারি কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলে চক্র তা তোয়াক্কা করেনি। পরের দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিহাব (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে মুকিত মিয়া জমিটি সরকারি বন্দোবস্ত দাবি করলেও বৈধ নথি দেখাতে ব্যর্থ হন। অভিযোগ, তার পক্ষের আইনজীবী সুজন মিয়া বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি সতর্ক করেছেন, “নামমাত্র জরিমানা দিয়ে বড় ক্ষতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। সরকারি সম্পদ লুটপাটের মূল হোতাদের ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা হবে।”
সদর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা আদিত্য পাল জানিয়েছেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে, কিন্তু মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা করা হবে।”
বর্তমানে মাটি কাটার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও এলাকাবাসী মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: