গণভোট অচেনা, অজানা—গ্রাম আর চা বাগান কি তবে গণতন্ত্রের বাইরে?
Led Bottom Ad

গণভোট অচেনা, অজানা—গ্রাম আর চা বাগান কি তবে গণতন্ত্রের বাইরে?

কামরান আহমদ, মৌলভীবাজার

১১/০১/২০২৬ ২০:৪৫:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

১২ ফেব্রুয়ারি। একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, অন্যদিকে গণভোট—রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক দিন। কিন্তু মৌলভীবাজারের চা বাগান আর প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এই দিনটি যেন শুধু এমপি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। গণভোট সেখানে এক অচেনা শব্দ, এক অদেখা বাস্তবতা।


শহরে পোস্টার, ব্যানার, মাইক—সবই আছে। অথচ শহর পেরোলেই নিস্তব্ধতা। ৯২টি চা বাগান, অসংখ্য গ্রাম—কোথাও নেই গণভোটের কোনো বার্তা। ফলে চা শ্রমিক আর গ্রামীণ মানুষের বড় একটি অংশ আজও জানে না, গণভোট কী, কেন হচ্ছে, কিংবা তারা ঠিক কোন বিষয়ে “হ্যাঁ” বা “না” বলবে।


যাঁরা প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাতা তুলছেন, যাঁরা মাঠে ঘাম ঝরিয়ে সংসার টানছেন—তাঁদের কাছে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন অপ্রাসঙ্গিক করে রাখা হয়েছে। নারী চা শ্রমিকরা সোজাসাপ্টা বলেন, “আমরা জানি এমপি ভোট হবে। এর বাইরে আর কিছু জানি না।” এই না-জানার দায় কি শুধু তাঁদের?


দিনমজুর ইউসুফ মিয়ার প্রশ্নটি যেন পুরো পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ—“গণভোট আবার কী?”


গ্রামের প্রবীণরা মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি নির্বাচন বোঝেন। কিন্তু গণভোট? সেটি যেন শহরের মানুষের জন্য, কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ কোনো আয়োজন। যাদের ভোটে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত বৈধতা পায়, তারাই যদি সিদ্ধান্তের বিষয় না বোঝে—তবে সেই গণভোট কি সত্যিই গণের?


প্রশাসনের বক্তব্যেও স্পষ্ট বিভ্রান্তি। কেউ বলেন প্রচার শুধু জেলা শহরে, কেউ বলেন উপজেলা পর্যায়ে হবে না। এই দায় এড়িয়ে যাওয়ার রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে চা শ্রমিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী।


গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নেওয়া নয়—গণতন্ত্র মানে ভোটারকে বোঝানো, জানানো, সম্পৃক্ত করা। গ্রাম আর চা বাগান যদি অন্ধকারেই থাকে, তবে গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়েই থাকবে—গণতন্ত্রের নয়, ব্যবস্থার ভোট।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad