হুক্কা: একসময় গ্রাম বাংলার নিত্যসঙ্গী, আজ অচেনা বস্তু
Led Bottom Ad

হারানো ঐতিহ্য

হুক্কা: একসময় গ্রাম বাংলার নিত্যসঙ্গী, আজ অচেনা বস্তু

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

১৪/০১/২০২৬ ১৩:২৭:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ধূমপানের একসময়কার জনপ্রিয় মাধ্যম, হুঁকা বা হুক্কা, এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার নিত্যসঙ্গী এই হুঁকা আজ শহর-গ্রাম উভয় জায়গায় প্রায় অচেনা। তিন-চার দশক আগে গ্রামগঞ্জের প্রতিটি বাড়িতেই হুঁকার প্রচলন ছিল। গ্রামের সালিশ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা জমায়েতে ছোট-বড় সবাইকে হুঁকায় আপ্যায়নের রীতি ছিল স্বাভাবিক বিষয়। প্রভাবশালী বাড়িতে লম্বা পাইপযুক্ত স্ট্যান্ড হুঁকা থাকত, যা ঐ বাড়ির মর্যাদা ও প্রভাবের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।

বর্তমান প্রজন্মের কাছে হুঁকা একেবারেই অপরিচিত। খাওয়া-দাওয়া তো দূরের কথা, অনেকেই চোখে পর্যন্ত দেখেনি। ঐতিহ্যবাহী হুঁকার জায়গা এখন দখল করেছে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিনযুক্ত সিগারেট ও বিড়ি। পাশাপাশি তরুণরা নিষিদ্ধ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। অনেকে মনে করেন, কম নিকোটিনযুক্ত হুঁকার প্রচলন থাকলে যুবসমাজকে মাদকাসক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা যেত।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ঝাপেরগাঁওয়ে ললীমোহন সিংহ ও কৃষ্ণমোহন সিংহকে দেখা গেছে বৈকালিক আড্ডায় হুঁকা টানতে। ললীমোহন সিংহ বলেন, “তিন-চার দশক আগে আমাদের বাপ-দাদারা হুক্কা ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করতে পারতেন না। ঘরে চাল-ডাল না থাকলেও হুক্কা থাকত অবশ্যই। কুচি করা তামাক চিটাগুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে নারকেলের টোলের পানিতে ব্যবহার করা হতো, এতে নিকোটিনের পরিমাণ কম থাকত।”

তিনি আরও জানান, “আমি প্রায় ৬৫ বছর ধরে হুক্কা টেনে আসছি। কখনো সিগারেট, বিড়ি বা পান খাইনি। এখনও আমার বাড়িতে অনেকে শখ করে হুক্কা টানতে আসে—এতে আমার প্রশান্তি।”

হুঁকার এই ইতিহাস ও প্রজন্মের গল্প আজ গ্রামবাংলার সংস্কৃতির এক অনন্য অধ্যায়। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে এটি প্রায় অচেনা হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধূমপানের রীতি।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad