শাল্লায় জালিয়াতির মাধ্যমে জলমহাল দখলের চেষ্টা, উৎকণ্ঠায় ২৩ পরিবার
Led Bottom Ad

শাল্লায় জালিয়াতির মাধ্যমে জলমহাল দখলের চেষ্টা, উৎকণ্ঠায় ২৩ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১০/০২/২০২৬ ১৭:৩৪:২০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে একটি প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক ইজারাকৃত জলমহাল দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া সাব-লীজ দলিল তৈরির মাধ্যমে 'আটগাঁও কাশিপুর লাইরাদিঘা গ্রুপ-এ' জলমহালটি হাতিয়ে নেওয়ার এই অপচেষ্টায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন ২৩টি মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার 'উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড' ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ৪৪৩ একরের এই জলমহালটি ১৪২৭ থেকে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ মেয়াদে (৬ বছর) যথাযথ প্রক্রিয়ায় ইজারা গ্রহণ করে। সমিতির সদস্যরা নিয়মিত সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে সেখানে মাছ চাষ ও আহরণ করে আসছিলেন। বর্তমানে ইজারার শেষ বছর চলায় জলমহালটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল।

অভিযোগ উঠেছে, আটগাঁও গ্রামের প্রভাবশালী ডালাস রাজীব উদ্দিন ও রুমেন মিয়া নামের দুই ব্যক্তি ইজারাদার সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাসের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে একটি ভুয়া 'সাব-লীজ' চুক্তিপত্র তৈরি করেন।

২০২৩ সালে চক্রটি জালিয়াতির মাধ্যমে জলমহাল দখলে নিতে আদালতে মামলা দায়ের করলে, আদালত তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে মামলাটি খারিজ করে দেন এবং উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমিতির পক্ষে রায় প্রদান করেন। প্রথম দফায় ব্যর্থ হয়ে চক্রটি এখন পুনরায় রুমেন মিয়াকে ব্যবহার করে আদালতে মামলা করেছে। এই মামলায় দাবি করা হয়েছে, সভাপতি ৭২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জলমহালটি সাব-লীজ দিয়েছেন—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করছে সমিতি কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা জানান, ইজারার শেষ সময়ে এসে মাছ আহরণ বন্ধ রাখতে প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাস বলেন, “আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে মাছ চাষ করেছি, সরকারকে সময়মতো রাজস্ব দিচ্ছি। অথচ একটি চক্র ভুয়া কাগজ বানিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করে মাছ লুটের চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

মামলার বাদী রুমেন মিয়ার সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে সাধারণ মৎস্যজীবীদের জীবিকা কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে জলমহালটি প্রকৃত ইজারাদারদের অনুকূলে নির্বিঘ্ন রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad