ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন
সিলেট-৬: সুশৃঙ্খল প্রচারণায় দাপট দেখাচ্ছে জামায়াত
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে প্রচারণার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শৃঙ্খলা ও সুসংহত সাংগঠনিক তৎপরতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন ও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রচারণা শুরুর দিন ২২ জানুয়ারি থেকেই বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে জামায়াতের গণসংযোগ নজর কেড়েছে সাধারণ ভোটারদের। ব্যানার, ফেস্টুন আর সুশৃঙ্খল মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে তারা মাঠ নিজেদের দখলে রেখেছে। দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতে, এবারই তাদের সামনে এই আসনে বিজয়ী হওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াতের মিডিয়া সমন্বয়ক রুকন উদ্দিন বলেন, “আমাদের প্রচারণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। যেসব এলাকায় আমরা শক্ত অবস্থানে আছি, সেখানে ভিত্তি আরও মজবুত করা হয়েছে এবং দুর্বল এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে জনমত গঠনের কাজ চলছে।”
এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। তবে এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এবং বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় সমীকরণ পাল্টে গেছে। ২০০৮ সালে জামায়াতের প্রার্থী ৫১ হাজার ৯৭৪ ভোট পেলেও এবার তারা ‘ভূমিধস’ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
নির্বাচনী সভায় প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ গ্যাস সমৃদ্ধ এলাকা হলেও এখানকার মানুষই গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং নদী ভাঙন রোধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার পাশাপাশি এই জনপদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।”
তিনি কর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, প্রশাসনের কোনো দলীয় ট্যাগ ব্যবহার করে যেন নিরীহ কাউকে হয়রানি করা না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনী ময়দানে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতের এই ‘বাইল্যাটেরাল’ লড়াই এখন সিলেটের অন্যতম আলোচিত বিষয়। সাধারণ ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের বড় একটি ভোট ব্যাংক এবার কোন দিকে যাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিজয়ের মুকুট।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: