বানিয়াচংয়ে বিলুপ্তির পথে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পালকি
Led Bottom Ad

জাদুঘরে ঠাঁই নিচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতি

বানিয়াচংয়ে বিলুপ্তির পথে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পালকি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বানিয়াচং

২১/০২/২০২৬ ১৬:০৯:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

‘হুন হুনা হুন হুনরে চার বেহারার পালকি চড়ে যায়রে কন্যা পরের ঘরে’—বেহারাদের এমন ছন্দময় গান আর মেঠো পথে পালকির চলাচলের দৃশ্য এখন কেবলই দাদী-ঠাম্মাদের স্মৃতিকথা। কালের বিবর্তনে যান্ত্রিক সভ্যতার দাপটে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলাসহ গ্রাম বাংলার হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বাহন পালকি এখন বিলুপ্তির পথে। সংস্কৃত শব্দ ‘পালঙ্ক’ থেকে উৎপত্তি হওয়া এই মানুষ-চালিত চাকাবিহীন বাহনটি একসময় আভিজাত্য ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে বিয়ের উৎসবে নবদম্পতিকে পালকিতে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছিল গ্রাম বাংলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বানিয়াচংয়ের ইনাতখানী গ্রামের ৮৯ বছর বয়সী কমলা বেগম আবেগজড়িত কণ্ঠে তাঁর শৈশবে পালকিতে চড়ে শ্বশুরবাড়ি আসার স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই রঙিন দিনগুলো এখন কেবল চোখের জলেই মনে পড়ে।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, রামায়ণেও পালকির উল্লেখ থাকায় ধারণা করা হয় প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে থেকেই উপমহাদেশে এর প্রচলন ছিল। ইবনে বতুতার ভ্রমণ কাহিনীতেও পালকির ভূয়সী প্রশংসা পাওয়া যায়। চারজন বেহারা বা কাহার দ্বারা বাহিত এই কাঠের বাক্সসদৃশ বাহনটি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের কাছেই ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতায় উঠে আসা এই ঐতিহ্য এখন নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্পের মতো। বর্তমানে বিয়ের যাত্রায় বিদেশি বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবহার পালকির জৌলুস কেড়ে নিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অতুল বিশ্বাস মনে করেন, বাঙালির এই অনন্য ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে সরকারিভাবে জাদুঘর ও পাঠ্যপুস্তকে এর স্মৃতি সংরক্ষণ করা জরুরি। যান্ত্রিক সভ্যতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া পালকি এখন মেঠো পথ ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছে লোক-কারুশিল্প জাদুঘরের শো-কেসে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad