মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের উচ্ছ্বাস
শ্রীমঙ্গলে ভক্তদের আনন্দে মুখরিত বাসন্তী পূজা
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বাসন্তী পূজা, যেখানে ধর্ম, ভক্তি এবং আনন্দ একসাথে মিলিত হয়েছে। চৈত্র মাসের এই ঐতিহ্যবাহী পূজা শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, ভক্তরা মায়ের পুজোর আনন্দে মেতে উঠেছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ষষ্ঠী পূজা উদযাপন দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব শুরু হলেও, বুধবার সকাল থেকে মহাসপ্তমী পূজা ছিল দর্শনীয়। মণ্ডপগুলোতে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন, পুরোহিতরা মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহন করেন।
শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০টি পূজা মণ্ডপে উৎসবের আয়োজন চলে। উল্লেখযোগ্য মণ্ডপগুলো হলো: শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী বাড়ি,পৌর শ্মশানঘাট,নির্মাই শিববাড়ি,রূপসপুর আবাসিক এলাকা,দেববাড়ি,সবুজবাগ শ্মশানঘাট,উত্তসুর, গন্ধর্বপুর ও সন্ধানী আবাসিক এলাকা।
সঙ্গীতা চৌধুরী সুচি বলেন, “আমরা বছরের এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করি। বন্ধুবান্ধব ও পরিবার সবাই মিলে একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করি। পূজার আনন্দ মিস করার মতো নয়, সত্যিই খুব আনন্দ লাগছে।”
প্রযুক্তা ভট্টাচার্য যোগ করেন, “আজ সপ্তমীর পূজায় আমরা সবাই মায়ের কাছে অঞ্জলি দিয়েছি। একসাথে থাকা, পূজা উপভোগ করা—এটাই আসল আনন্দ। বাসন্তী পূজা দুর্গাপূজার মতো আনন্দময়।”
শ্রীমঙ্গল পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ দাশ চৌধুরী জানান, “প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের পদচারণায় মণ্ডপগুলো মুখর। মন্ত্রোচ্চারণ, পুষ্পাঞ্জলি, ভক্তি—সবই একসাথে মিশে উদযাপনকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত।”
পুরোহিত লিটন ভট্টাচার্য বলেন, “২৪ মার্চ থেকে ষষ্ঠী পূজা শুরু হয়ে মহাসপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পর্যন্ত উৎসব চলবে। ২৮ মার্চ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই উৎসব সমাপ্ত হবে।”
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বাসন্তী পূজা আদি দুর্গাপূজা, যা শরৎকালের দুর্গাপূজার আগেই বসন্তকালে পালিত হয়। পুরাণে উল্লেখ, রাজা সুরথ প্রথম এ পূজার প্রচলন করেন, পরে ভগবান রাম দুর্গাপূজা চালু করেন।
শ্রীমঙ্গলে বাসন্তী পূজা ভক্তি, আনন্দ ও ঐতিহ্যের মিলনমেলা, যা ভক্তদের হৃদয় ভরে দিয়েছে শান্তি, উচ্ছ্বাস এবং অপূর্ব ধর্মীয় অনুভূতিতে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: