বিয়ানীবাজারে প্রশাসনের নাকের ডগায় কুশিয়ারা নদীর কোটি টাকার বালু লুট
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর সরকারি চর থেকে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বালু লুটের মহোৎসব চলছে। প্রায় এক মাস ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখের সামনে এই লুটপাট চালালেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, ৫.৮ একর আয়তনের এই সমৃদ্ধ চরটি তফসিলভুক্ত দাগ (দাগ নং ১১৮) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ইজারা তালিকায় না থাকায় সরকার গত কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে; আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা ও তার ছেলেসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বালু লুটে মেতে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রমজান মাস থেকে শুরু করে ঈদের পরবর্তী সময়েও গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নির্বিচারে বালু কেটে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে ইতিমধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ ঘনফুট বালু উধাও হয়ে গেছে এবং চরের বিভিন্ন স্থানে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ইউপি চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে ইটভাটার জন্য নিজস্ব জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে, তবে সরেজমিনে চরের সরকারি অংশ থেকে বালু লুটের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার এ বিষয়ে জানান যে, ঘটনাস্থল পাহারা দেওয়ার জন্য গ্রাম পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে বালু লুটে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে এলাকায় প্রভাবশালী এই চক্রের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও তারা দ্রুত এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: