ছাতকে মামলা ধামাচাপা দিতে পকেটভারি তৃতীয়পক্ষের
Led Bottom Ad

কিশোর নির্যাতন

ছাতকে মামলা ধামাচাপা দিতে পকেটভারি তৃতীয়পক্ষের

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

২০/০৭/২০২৫ ১৮:৩৯:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ছাতকে চুরির মিথ্যা অপবাদে এক কিশোরকে চরমভাবে নির্যাতন করে চোখ দুটি ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত শুরু হলে বিবাদী পক্ষ বাদী পক্ষের সাথে মামলা নিস্পত্তি করতে চাইলে আগমণ ঘটে তৃতীয় পক্ষের। অভিযোগ উঠে তৃতীয় পক্ষ বাদীর পরিবারকে আড়াইলাখ টাকা দিলেও বিবাদী পক্ষের কাছ থেকে তিনগুন বেশি টাকা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  


জানা যায়, ছাতক উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে কামিল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আকিলপুর গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী রমিজ আলীর দোকানে কাজ করত। রমিজ ও তার ছেলেরা সবজি ব্যবসার আড়ালে মাদক পরিবহন করতেন, যা কামিল জানতে পেরে চাকরি ছাড়েন। কিন্তু রমিজ তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে পুনরায় কাজে ফিরিয়ে নেন। কামিল মাদক ব্যবসার কথা ফাঁস করে দেওয়ায় গত ৩০ জুন রমিজ ও তার ছেলেরা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং একটি ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ফেলে দেয়। এতে কামিল গুরুতর আহত হন। পরে রমিজ তার ছেলে মোস্তাকীমকে বাদী করে কামিলের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মিথ্যা চুরির মামলা (জিআর ১৮৯/২৫, ধারা ৩৮০) দায়ের করেন, যেখানে কামিলের বয়স ২০ বছর দেখানো হয়।


পুলিশ কামিলের বয়স ও শারীরিক অবস্থা যাচাই না করে তাকে থানা হাজতে রাখে এবং পরে আদালতে পাঠায়। ১ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কামিলকে জামিন দেন এবং তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে চিকিৎসার নির্দেশ দেন। তিনি সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপারকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।


তদন্ত শুরু হতেই রমিজ প্রভাবশালীদের সহায়তায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। গত ১৮ জুলাই ছাতক বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আমরুসহ মধ্যস্থতাকারীরা মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে কামিলের বাবাকে আড়াই লাখ টাকা দেন। তবে মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।


এ বিষয়ে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে রোববার (৬ জুলাই) এএসপি সার্কেল থানায় এসে তদন্ত করে গেছেন। টাকার বিনিময়ে নিষ্পত্তির বিষয়টি আমার জানা নাই।


একই বক্তব্য দিয়ে তদন্তকারী পুলিশ সুপার (দিরাই সার্কেল) মো. শরিফুল হক বলেন, আগামী ১৫ কার্য দিবসের ভেতরে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ রয়েছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad