চোরাচালানের গরু ৫ ব্যক্তির জিম্মায়
দোয়ারাবাজারে উধাও ৯০ টি গরু, গচ্ছা গেল কোটি টাকা
দোয়ারাবাজারে উধাও হয়ে গেছে ৯০ টি গরু। বাজার মূল্য অনুযায়ী ৯০ টি গরুর দাম ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এতে করে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এক অদৃশ্য আতাঁতে গরুগুলো বিক্রি করে এক নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে নিয়ে আসা ৯০টি গরু উদ্ধার করা হয়। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সুরমা নদীর আব্দুর জহুর সেতুর নিচ থেকে গরুগুলো জব্দ করেছিল টাস্কফোর্স। পরে উদ্ধার হওয়া গরু আইনী জটিলতা দেখিয়ে নিলাম না দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে স্থানীয় ৫ ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্তকালে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। তদন্তে গিয়ে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে ৯০টি গরু জিম্মাদারদের কাছে নেই।
সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত গরু জেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সামনে টাস্কফোর্স কমান্ডার ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান হৃদয় দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজারের জাহাঙ্গীর আলম, সাব্বির আহমদ, বালিহড়া গ্রামের হারুনুর রশিদ, ধর্মপুর গ্রামের নাজমুল হাসান ও দোয়ারাবাজারের বাহার উদ্দিনের কাছে ৯০টি গরুর আইনীভাবে জিম্মা দেন।
এসময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা ৯০টি গরুর বিভিন্ন আলামতও নথিবদ্ধ করেন। পাশাপাশি টাস্কফোর্স কমান্ডার বিজিবিকে নিয়মিত মামলা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। জানা গেছে, ৯০টি গরু জিম্মায় দেওয়ার আগে প্রাণিসম্পদ অফিস নিশ্চিত করেছিল এগুলো ভারত থেকে চোরাই পথে নিয়ে আসা হয়েছিল।
কিন্তু দোয়ারাবাজারের গরুর হাটের ইজারাদার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযোগ করায় নিলামে বিপত্তি দেখা দেয়। ফলে নিলাম না দিয়েই স্থানীয় ৫ ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল গরুগুলো। কোর্টে সিদ্ধান্তের পরে নিলাম দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
জানা গেছে, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই আল আমিন ঘটনাস্থলে সরেজমিন পরিদর্শনে যান জব্দকৃত গরুগুলো কোথায় আছে দেখার জন্য। তিনি জিম্মাদারদের সঙ্গে দেখা করে গরুগুলো কোথায় আছে জানতে চাইলে কেউ তাকে গরু দেখাতে পারেনি। পরে পুলিশের এই কর্মকর্তা গত ১০ জুন আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে গরুগুলো জিম্মাদাররা তাকে দেখাতে পারেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জিম্মাদার হারুন রশিদ বলেন, গরুগুলো বিভিন্ন স্থানে আছে। আমারগুলোও আমার কাছে নেই। কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে আছে।
অপর জিম্মাদার নাজমুল হাসান বলেন, আমার গরুগুলোও আমার কাছে নাই। এগুলো বাঁশতলা এলাকায় আছে। তাহলে পুলিশ কেন খুঁজে পেলনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আমি এ নিয়ে চরম পেইনের মধ্যে আছি।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, আমি সুনামগঞ্জ সদর থানা থেকে বদলি হয়ে এসেছি। তবে এর আগে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গরুগুলো জিম্মাদারদের কাছে পাইনি। এসংক্রান্ত প্রতিবেদন আমি আদালতে জমা দিয়ে এসেছি।
প্রত্যক্ষদর্শী আরপিন নগর নিবাসী মনিরল ইসলাম বলেন, আব্দুর জহুর সেতুর নিচ থেকে ভারতীয় গরু আটকের সময় আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম কিন্তু এখন শুনি গরুগুলোর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এটা বিজিবি ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি করবে।
সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাকারিয়া কাদির বলেন, ৯০টি গরু টাস্কফোর্স কমান্ডার ৫ জনকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এখন পুলিশ সরেজমিন তদন্ত করে জানতে পেরেছে এগুলো জিম্মাদারের কাছে নেই। এ বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আদালত এখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে টাস্কফোর্স কমান্ডার লিখিত নিয়েই ৫ জনের জিম্মায় গরুগুলো দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ওই ঘটনার টাস্কফোর্স কমান্ডার মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, আমি বিজিবিকে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়ে গরুগুলো ৫ জনের জিম্মায় দিয়েছিলাম। এগুলো রাখার এখতিয়ার আমাদের নেই। এ বিষয়ে আদালতই সিদ্ধান্ত নিবেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: