উদ্বোধনের বছরেই শাবিপ্রবির সামাজিকবিজ্ঞান ভবনে ফাটল
Led Bottom Ad

২৩ কোটির প্রকল্পে দুর্ঘটনার শঙ্কা

উদ্বোধনের বছরেই শাবিপ্রবির সামাজিকবিজ্ঞান ভবনে ফাটল

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২০/০৪/২০২৬ ১১:৪০:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত পাঁচতলা সামাজিকবিজ্ঞান ভবনটি উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দৃষ্টিনন্দন এই ভবনের ভেতরে ফাটলগুলো সিমেন্টের প্রলেপে ঢাকার চেষ্টা করা হলেও তা স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদিত অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-১ এর আওতায় ২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেরিনা কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েটস ও দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। ২০২০ সালে শুরু হওয়া কাজ শেষ করে ২০২৪ সালের ৩০ জুন ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজকর্ম ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের কার্যক্রম চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিচতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত দেয়াল ও বিমে অন্তত ২০টির বেশি ফাটল রয়েছে। বিশেষ করে গত নভেম্বরের ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়, যা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এদিকে ভবনটিতে কোনো লিফট না থাকায় ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে অনেক প্রবীণ শিক্ষক ও নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক ডিন অধ্যাপক দিলার রহমান ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ হাসান এই প্রকল্পের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাশ দাবি করেছেন এটি ‘নন-স্ট্রাকচারাল’ ফাটল, তবে বারবার দেয়ালে ফাটল ধরা কেন হবে—সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিভাগীয় প্রধানরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী এই অবস্থার জন্য আগের প্রশাসনের সময়কার অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে জানান, বর্তমানে ভবনের নির্মাণকাজের তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, লিফটের গুণগতমান যাচাইয়ের কথা বলে প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করছেন। কোটি টাকার এই ভবনের নাজুক পরিস্থিতি দ্রুত নিরসন না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad