কলকাতার নতুন চলচ্চিত্রে সিলেটের বাউল শিল্পীর লোকজ সুর!
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বাউল ধারা ও লোকজ সুরের মূর্ছনা এবার স্থান করে নিয়েছে কলকাতার ওপার বাংলার বহুল আলোচিত চলচ্চিত্রে। পশ্চিমবঙ্গের নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত পূজাবর্ষের নতুন সিনেমা ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’-এর প্রচারণা ও চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়েছে সিলেটের ওসমানীনগরের বাউল শিল্পী আনহার মিয়ার সৃষ্টি করা বিশেষ একটি গান।
ওসমানীনগরের লতিবপুর গ্রামের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী আনহার মিয়া পেশায় একজন কবিরাজ ও বাউল শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক পর্যায়ে লোকসংগীত চর্চার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সিলেট বেতারেও যুক্ত রয়েছেন। প্রায় তিন বছর আগে বিয়ানীবাজারের চরখাই এলাকায় রোগী দেখতে যাওয়ার পথে শিষ্যের ওপর জমে থাকা ব্যক্তিগত মনখারাপ ও অভিমানকে বিড়ালের রূপকে তুলে ধরে ‘বিলাই মেও মেও রে’ গানটি রচনা ও সুর করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম ও ইউটিউবের সুবাদে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া সুরটি নজরে আসে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। পরবর্তীতে মিডিয়া মাধ্যমের সহযোগিতায় আনহার মিয়ার সন্ধান পাওয়ার পর তাঁকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং গানটি চলচ্চিত্রে ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। প্রযোজনা সংস্থা উইন্ডোজের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গানটি মুক্তির পর থেকেই আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
নিজের সৃষ্টি সীমান্ত ছাড়িয়ে ভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রে স্থান পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আনহার মিয়া বলেন, “আমার জীবনে এর চেয়ে বেশি আর পাওয়ার কী হতে পারে! এই তো অনন্য পাওয়া। শিবু দাদা আমাকে অনেক সম্মান করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন, ভালো সম্মানী দিয়েছেন। তাতেই আমি খুশি।”
তিনি আরও যোগ করে জানান, চলচ্চিত্র দলের আমন্ত্রণে তিনি সম্প্রতি কলকাতায় গিয়ে নিজস্ব কণ্ঠে গানটি রেকর্ড করেছেন এবং শিল্প সংস্কৃতির সীমান্ত পেরিয়ে এ ধরনের বিশ্বজনীন মূল্যায়ন তাঁকে ভবিষ্যৎ শিল্পচর্চায় অনুপ্রাণিত করবে।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: