মৌলভীবাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা
Led Bottom Ad

ধান কাটার উৎসবেও কৃষকের চোখে পানি

মৌলভীবাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২০/০৪/২০২৬ ১১:৫০:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে পাকা ধানের সোনালি আভা দুললেও কৃষকের মনে স্বস্তি নেই। ভালো ফলন সত্ত্বেও অব্যাহত বৃষ্টিপাত, তীব্র জ্বালানি সংকট, শ্রমিকের চড়া মূল্য এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় বোরো চাষিদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে। একদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে কাউয়াদীঘি হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে আড়তে ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হাজারো কৃষক।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং ৩ লাখ ১২ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওরের নিচু এলাকার প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রসুলপুর গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া ও মোকামবাজার এলাকার শামছুউদ্দিন জানান, বৃষ্টির পানিতে ধানের ছড়া ডুবে যাওয়ায় ফসল পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাশিমপুর পাম্প হাউস নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল না থাকায় জলাবদ্ধতা কমছে না, ফলে হিঙ্গুয়া ও বুরবুরিয়া বিল সংলগ্ন নিচু এলাকার জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মনু প্রকল্পের পাম্পগুলো সব সময় সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের কারণে জেলায় কর্মরত ১৪৪টি হারভেস্টার মেশিনও পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না। একটি মেশিনের জন্য দৈনিক ৭০-৮০ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫-৩০ লিটার। এর সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিকের চড়া মজুরি; বর্তমানে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। আড়তে বর্তমানে বোরো ধান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করলে বোরো ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad