শান্তিগঞ্জে জিংক ধান বিপণনে কৃষক-ব্যবসায়ী যৌথ বৈঠক
জিংকসমৃদ্ধ বায়োফর্টিফাইড ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত ও টেকসই বাজার শৃঙ্খল (ভ্যালু চেইন) গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে এক অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই ‘ভ্যালু চেইন অ্যাক্টরস’ সভার আয়োজন করা হয়। মাল্টি-সেক্টরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (MAIN) প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা হার্ভেস্টপ্লাস সল্যুশনস (HPS) ও নিউট্রিশাস অ্যাগ্রিফিউচার বাংলাদেশ (NAF-BD) যৌথভাবে সভাটি বাস্তবায়িত করে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আহসান হাবিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রতিনিধি আব্দুল আহাদ এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (BADC) উপসহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন MAIN প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. জাকিউল হাসান এবং প্রকল্প কর্মকর্তা কৃষিবিদ মানিক দেবনাথ।
কৃষি উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা—উভয় খাতের সংযোগ জোরদারে আয়োজিত এ সভায় প্রান্তিক কৃষক, অনুমোদিত বীজ ডিলার, খুচরা বিক্রেতা, স্থানীয় সংগ্রহকারী, আড়তদার, চালকল (রাইস মিল) মালিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিউদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট ভ্যালু চেইনের মোট ২৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
দিনব্যাপী আলোচনায় জিংকসমৃদ্ধ ধানের পুষ্টিগুণ, মাঠপর্যায়ে এর উৎপাদন সম্ভাবনা, মানসম্মত বীজের সরবরাহ সুনিশ্চিতকরণ এবং ধান-চাল সংগ্রহ, প্রসেসিং ও বাজারজাতকরণের কৌশলগত বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে জিংক চালের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য কৃষক থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকারী ও ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি নীতি সহায়তা ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে বাজারে এই চালের স্থায়ী চাহিদা সৃষ্টির ওপর জোর দেন অতিথিরা।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের পূর্বে পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় অনুরূপ বাজার সংযোগবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার জেলার এসব আয়োজনে মোট ১০০ জন ভ্যালু চেইন অংশীজন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, যৌথ এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে জিংকসমৃদ্ধ ধানের টেকসই বিপণন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা কৃষকদের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: