ডাস্টারের আঘাতে রক্তাক্ত ছাত্রী,জগন্নাথপুরে শিক্ষকতার নির্মম চিত্র
Led Bottom Ad

ডাস্টারের আঘাতে রক্তাক্ত ছাত্রী,জগন্নাথপুরে শিক্ষকতার নির্মম চিত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর

১২/১১/২০২৫ ১৪:২২:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। শিক্ষার আলোকবর্তিকা হওয়ার কথা ছিল যে শ্রেণিকক্ষ, সেখানেই এক শিক্ষকের হাতে রক্তাক্ত হলো এক কিশোরী ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটে রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে—বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরুক আহমেদ ক্লাস চলাকালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাইদা বেগম (১৪)-কে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন।


শিক্ষকের এমন আঘাতে রক্তে ভেসে যায় ছোট্ট মেয়েটির ইউনিফর্ম, কেঁপে ওঠে পুরো শ্রেণিকক্ষ। ভীত সহপাঠীরা ছুটে যায় পাশে, কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ে, কেউ শিক্ষককে থামানোর চেষ্টা করে। পরে আহত অবস্থায় সাইদাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, মাথায় গভীর আঘাত লেগেছে, সেলাই দিতে হয়েছে একাধিক জায়গায়।


নির্যাতিত সাইদা বেগম পাটলী ইউনিয়নের নন্দিরগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের অটোচালক মুজিবুর রহমানের মেয়ে। সাধারণ এক পরিবারের অসহায় এই কিশোরীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা আচরণে ক্ষোভে ফুঁসছে অভিভাবক ও এলাকাবাসী।


একজন অভিভাবক বলেন,“যে শিক্ষক সন্তানকে জ্ঞান শেখানোর কথা, তিনিই আজ নিজের রাগে রক্ত ঝরালেন—এটা ভাবতেই কষ্ট হয়।” ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক ফরুক আহমেদ স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না। 


তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান জোয়ারদার পলাশ বলেন,“এটি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু না ঘটে, আমরা সে বিষয়ে সতর্ক থাকব।”


এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ কুমার রায় বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে নিন্দার ঝড়। মানুষ প্রশ্ন তুলছে—“যেখানে শিক্ষকই শাস্তির প্রতীক হয়ে ওঠেন, সেখানে শিশুরা কাকে ভরসা করবে?”


রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad