রিজওয়ানা হাসানের আত্মীয় পরিচয়
শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বনজ সম্পদ পাচার, অবৈধ করাতকল থেকে মাসোহারা আদায় এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গঠন করে পুটিজুড়ি ও রেমা কালেঙ্গা সংরক্ষিত বন থেকে কোটি টাকার কাঠ পাচার করেছেন। রেঞ্জের আওতায় অবৈধ করাতকল থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং বনজ দ্রব্য পরিবহনকারী যানবাহন থেকে চাঁদা নেওয়া হতো।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে নিলামে ক্রয়কৃত ১৭ টুকরা সেগুন কাঠের সঙ্গে আরও ১৮ টুকরা গোপনভাবে বিক্রি করার ঘটনায় স্থানীয়রা কাঠবাহী গাড়ি আটক করলে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কাঠ তৎকালীন উপদেষ্টার আত্মীয় প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো হচ্ছিল।
একই সময় নাহার এগ্রো অ্যান্ড গ্র্যান্ড পেরেন্টসের এনওসি দিতে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে সিনিয়র ম্যানেজার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর সিন্ডিকেটের সদস্যদের বন বিভাগের ইউনিফর্ম দিয়ে বিভিন্ন করাতকলে পাঠানো হতো এবং সেখান থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করা হতো। স্থানীয়রা কয়েকবার অভিযান চালিয়ে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার চেষ্টা করলেও প্রভাবশালী কর্মকর্তার আশ্রয়ে তা ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জে দুর্নীতির এই চক্র ভেঙে দিতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা জরুরি। না হলে বন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে এবং বনের সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর বেড়িবাঁধের গাছ পাচারের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করা হবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: