জমির বিরোধে আটকে আছে বিশ্বম্ভরপুরে মাদ্রাসা ভবনের নির্মাণকাজ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মেরুয়াখলা মমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ জমির বিরোধের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তিবিশিষ্ট এই ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তবে স্থানীয় তিন ব্যক্তির বাধায় বর্তমানে কাজ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধানে ভবনের একতলার কাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে লে-আউট দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে এই স্থান নির্ধারণ করেছিলেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে গেলে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আবদুল কাদির, আলী আহম্মদ ও সফর আলী বাধা দেন। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত লে-আউটের একটি অংশ তাঁদের ব্যক্তিগত জায়গার মধ্যে পড়েছে।
ব্যক্তিমালিকানার ওই দাবির পর থেকেই ভবন নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা দ্রুত এই বিরোধ নিষ্পত্তি করে মাদ্রাসার উন্নয়নকাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। এলাকার লোকজন এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষকেরা জানান, সরকারি নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতেই ভবনের লে-আউট দেওয়া হয়েছিল। এখন ব্যক্তিমালিকানার দাবি তুলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. মাহবুবুর রহমান প্রথম সিলেটকে বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজ এভাবে আটকে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।’
জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি নিয়ম ও পরিমাপ মেনেই ভবনের লে-আউট দেওয়া হয়েছে। সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এল আর রাজু/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: