পাহাড়ের কোলে এক নীল পদ্ম বড়লেখার ‘বেকি লেক’
Led Bottom Ad

পাহাড়ের কোলে এক নীল পদ্ম বড়লেখার ‘বেকি লেক’

তাহির আহমদ

২১/০৫/২০২৬ ২১:০৩:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

শহুরে কোলাহল থেকে দূরে, যেখানে মেঘেরা পাহাড় ছুঁয়ে নেমে আসে সবুজ পাতায়, আর ভোরের আলোয় শাপলারা জেগে ওঠে অলস জলরাশিতে—ঠিক তেমনই এক অনাবিষ্কৃত স্বর্গরাজ্য মৌলভীবাজারের বেকি লেক। প্রকৃতি যেন এখানে এসে নিজের হাতে রূপের পসরা সাজিয়েছে। অথচ এক অদ্ভুত নীরবতায়, লোকচক্ষুর আড়ালে এখনো রয়ে গেছে এই মায়াপুরী। পর্যাপ্ত প্রচার ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দেশের অধিকাংশ ভ্রমণপিপাসুর মানচিত্রে এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি বড়লেখার এই অনন্য জলধারা।


‘বেকি লেক’ এর অবস্থান: পাথারিয়া চা বাগান, দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।  যার আয়তন: প্রায় ২৭ একর এবং প্রধান আকর্ষণ: পাহাড়ঘেরা চা বাগান, লাল-সাদা শাপলা, অতিথি পাখি ও নির্জন প্রকৃতি।


পাথারিয়া চা বাগানের বুক চিরে ভেতরের দিকে এগোলেই চোখে পড়বে প্রায় ২৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বেকি লেক। লেকের চারপাশে সারি সারি চা গাছ যেন প্রকৃতির এক নিজস্ব সবুজ দেয়াল তৈরি করে রেখেছে।


লেকের শান্ত জলে ভেসে থাকা হাজারো লাল ও সাদা শাপলা ফুল এর মোহময়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। শীতের মরসুমে এখানে মেলা বসে দূরদেশ থেকে আসা অতিথি পাখিদের, আর বছরজুড়ে দেশীয় পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে চারপাশ। নির্জন প্রকৃতির বুকে পাখির এই গান আর বাতাসের দোলা মন ভালো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

অপেক্ষার প্রহর ও স্থানীয়দের আকুতি


একসময় কেবল চা শ্রমিক আর স্থানীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই লেকের সৌন্দর্য। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে সামান্য কিছু পর্যটকের পা পড়লেও, অবকাঠামোগত সুযোগ-বিধের অভাবে বেকি লেক তার পূর্ণ সম্ভাবনা ডানা মেলতে পারছে না।


স্থানীয় একজন সমাজকর্মী মোসলেহ উদ্দিন বলেন- "বড়লেখায় অনেক সুন্দর জায়গা আছে, কিন্তু প্রচারের অভাবে মানুষ জানে না। বেকি লেককে ঘিরে সঠিক উন্নয়ন ও প্রচার হলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হতে পারে।"


নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক শাহিদ নেওয়াজ মনে করেন, এখানে রয়েছে ইকো-ট্যুরিজমের অপার সম্ভাবনা। তিনি বলেন, “পরিকল্পিতভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এটিকে গড়ে তোলা গেলে পর্যটকদের মন যেমন ভরবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আসবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।”

নতুন সম্ভাবনার রূপরেখা: কী হতে পারে এখানে?


পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে, সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বা 'ইকো-ফ্রেন্ডলি' উপায়ে এই লেককে সাজানোর দাবি স্থানীয়দের। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এখানে যা যা করা যেতে পারে: ওয়াচ টাওয়ার (দর্শন টাওয়ার): যেখান থেকে পুরো লেক ও চা বাগানের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যাবে। নৌকা ভ্রমণ: লেকের শাপলাদের ছুঁয়ে দেখার জন্য পরিবেশবান্ধব ঐতিহ্যবাহী ডিঙি নৌকার ব্যবস্থা। বিশ্রামাগার ও ক্যাফে: প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে বাঁশ ও কাঠের তৈরি নান্দনিক বসার জায়গা। আদিবাসী ও স্থানীয় পণ্যের বাজার: ঘুরতে আসা মানুষের জন্য মনিপুরী বা স্থানীয় চা পাতার ছোট বাজার।


সবুজ শাড়ি পরা চা বাগানের কোলে বেকি লেক যেন এক অভিমানী রূপসী, যে শুধু সঠিক পরিকল্পনা আর একটু পরিচর্যার অপেক্ষায় দিন গুনছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যদি এই লেকের প্রচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে খুব দ্রুতই এটি দেশের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব (ইকো-ট্যুরিজম) গন্তব্য হয়ে উঠবে, যা পর্যটকদের দেবে এক আত্মিক প্রশান্তি।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad