উঠছে ন্যায্য মজুরির প্রশ্ন
চায়ের সুবাস ছড়ালেও বদলায়নি চা-শ্রমিকদের জীবনমান
আজ ২১ মে, বিশ্ব চা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে সামনে রেখে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। তবে এই উদযাপনের আলো আঁধারে আবারও সামনে চলে এসেছে দেশের চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও পিছিয়ে পড়া জীবনমান নিয়ে পুরোনো কিছু প্রশ্ন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী একটি খাত। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের বিস্তীর্ণ চা-বাগানগুলোতে দিনরাত খেটে হাজার হাজার শ্রমিক দেশের চায়ের চাহিদার বড় অংশ জোগান দিচ্ছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশের অন্যতম শীর্ষ এই উৎপাদনমুখী খাতের প্রধান কারিগর হলেও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে।
সাধারণ চা-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তাঁদের দৈনিক মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। এর পাশাপাশি বাসস্থান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁরা একই বঞ্চনার চক্রে আটকে আছেন।
শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে চা শিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়লেও শ্রমিকদের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সম্মানজনক ও ন্যায্য মজুরি কাঠামো, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। কেবল শিল্পের বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং শ্রমিকদের জীবনমান নিশ্চিত করলেই এই ঐতিহ্যবাহী খাতটি ভবিষ্যতে টেকসই হবে।
বিশ্ব চা দিবসে তাই চায়ের স্বাদ আর আভিজাত্যের উদযাপনের সমান্তরালে, সেই চায়ের পেছনের মেহনতি মানুষের জীবন ও অধিকার রক্ষার দাবিটিই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
শাহিন আহমেদ / ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: