বালুচরে আবারও সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ

লম্পট বাবা গণধোলাইয়ের পর পুলিশে

বালুচরে আবারও সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৬/০৫/২০২৬ ২১:১৬:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে একের পর এক পারিবারিক সম্পর্কের পবিত্রতা ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য ও কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেই চলেছে। জৈন্তাপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিলেট মহানগরীর বালুচর এলাকায় নিজের সৎ মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টার মতো এক পৈশাচিক ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এবার আর পার পায়নি সেই নরপশু। মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুরে লম্পট সৎ বাবা মো. আব্দুর রহীমকে (৫৪) হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের খাঁচায় পুরেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।


এর মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ২০ মে সিলেটের জৈন্তাপুরে এক পাষণ্ড বাবা কর্তৃক তার নিজের ১১ বছরের অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ধরণের বিকৃত মানসিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটল সিলেটে।


ধৃত লম্পটের নাম মো. আব্দুর রহীম। সে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার দক্ষিণ কাদরী এলাকার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। বর্তমানে সে মহানগরীর বালুচর মেইন রোড এলাকায় মো. বশির আহমদের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অবুঝ মেয়েটির ওপর চলত এই নরপশুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি মুখ বুজে সহ্য করলেও একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠক করে অভিযুক্ত আব্দুর রহীমকে সতর্ক করলেও তার ভেতরের পশুত্ব দমে যায়নি; বরং সে বুক ফুলিয়ে অপরাধ অস্বীকার করে।


অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে আবারও ভুক্তভোগী মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই লম্পট। কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। মেয়েটির চিৎকার ও গোঙানিতে টের পেয়ে স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিক ঘরে ঢুকে হাতেনাতে ধরে ফেলে সেই কামুক হায়েনাকে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার গণধোলাইয়ে তার পৈশাচিক অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়। উত্তম-মধ্যম দেওয়ার পর তাকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।


আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জনতা। বর্তমানে তাকে শাহপরাণ (রহ.) থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি এবং অভিযুক্ত সৎ পিতা—দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


সমাজ সচেতন মহলের দাবি, এই ধরণের নরপশুদের প্রকাশ্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজ থেকে এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। এখন দেখার বিষয়, আইনের কাঠগড়ায় এই লম্পটের কী শাস্তি হয়।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: