এক নজর দেখতে পশুর হাটে ভিড়
‘রাজা বাবু’কে নিয়ে জাউয়াবাজার তোলপাড়
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার পশুর হাটে এখন উৎসবের আমেজ। তবে এবারের হাটের সব আলো আর আলোচনা কেড়ে নিয়েছে একটি বিশেষ নাম—‘রাজা বাবু’। বিশাল আকৃতির, রাজকীয় গঠন আর নজরকাড়া সৌন্দর্যের এই গরুটি হাটে আসার পর থেকেই তৈরি হয়েছে তুমুল তোলপাড়। ক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থী—সবার চোখ এখন এই রাজা বাবুর দিকেই।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারি ও ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্ত থেকে নানা জাতের পশু নিয়ে এসেছেন এই হাটে। কিন্তু জাউয়াবাজারের বিশাল ময়দানে রাজা বাবু যেন একাই রাজত্ব করছে। শান্ত স্বভাবের এই বিশাল প্রাণীর পাশে দাঁড়িয়ে একটু ছোঁয়া বা এক পলক দেখার জন্য মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। কেউ কেউ পকেট থেকে মোবাইল বের করে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। মুহূর্তেই যেন হাটের ‘সেলিব্রেটি’ বনে গেছে এই রাজা বাবু।
গরুটির মালিক ও ব্যবসায়ী শুকুর আলী বুকভরা আশা নিয়ে পরম যত্নে লালন-পালন করা এই পশুটিকে হাটে এনেছেন। তিনি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করে তোলা রাজা বাবুর আনুমানিক ওজন প্রায় ২২ মণ। বিশালদেহী এই গরুর দাম তিনি হেঁকেছেন ১৮ লাখ টাকা। তবে দামের চেয়েও শুকুর আলীর কাছে এই গরুটির মূল্য অনেক বেশি। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "বহু মাস ধরে সন্তানের মতো খাটাখাটুনি করে ওরে বড় করেছি। হাটে আনার পর মানুষ যেভাবে ওরে দেখতে ভিড় করছে, তাতেই মনটা ভরে গেছে। তবে ভালো দাম পেলে এবং কোনো যোগ্য ক্রেতা আলোচনা সাপেক্ষে নিতে চাইলে আমি রাজী।"
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, জাউয়াবাজার পশুর হাটের ব্যস্ততা তত বাড়ছে। তবে সব কোলাহল আর দরদামের মাঝেও ১৮ লাখ টাকার ‘রাজা বাবু’কে ঘিরে মানুষের এই উচ্ছ্বাস যেন ঈদের আনন্দকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কার গোয়ালে উঠবে এই রাজকীয় রাজা বাবু, তা নিয়ে এখন পুরো হাটজুড়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
যোগাযোগের জন্য:
ব্যবসায়ী: শুকুর আলী
মোবাইল: 01712913704
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: