নিরাপদে ঈদের কেনাকাটায় মাঠে কঠোর অবস্থানে জামালগঞ্জ পুলিশ
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাচনা বাজারে যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত এবং অপরাধ ঠেকাতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল (বা আজ) জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাজারে এ জোরালো অভিযান পরিচালনা করে।
ঈদ উপলক্ষে সাচনা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
অভিযানকালে পুলিশ বাজারের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সড়কের ওপর যত্রতত্র মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইক (টমটম) পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। চালকদের সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ছাড়া যেখানে-সেখানে গাড়ি না থামানোর জন্য সতর্ক করা হয়।
পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের স্বার্থে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে রাখা অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে দেয় পুলিশ। জনভোগান্তি তৈরি করে ব্যবসা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কেনাকাটা করতে আসা মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা যাতে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও মলম পার্টির খপ্পরে না পড়েন, সেজন্য বাজারজুড়ে সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানের পর সাচনা বাজারের চিরচেনা যানজটের দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে যায়। যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
সাচনা বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ঈদের আগে বাজারে পা ফেলার জায়গা থাকে না। তার ওপর যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে পারতেন না। পুলিশের এই তৎপরতার কারণে বাজার এখন অনেক গোছানো এবং নিরাপদ মনে হচ্ছে।
অভিযান শেষে জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী বলেন, "ঈদ সামনে রেখে সাচনা বাজারে মানুষের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। যানজট তৈরি করে বা আইন অমান্য করে কেউ জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি অপরাধমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক ঈদের পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে।"
তিনি বাজারের ব্যবসায়ী, চালক এবং সাধারণ জনগণকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো সন্দেহভাজন বিষয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। ঈদ পর্যন্ত পুলিশের এই বিশেষ নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
রকি ইসলাম/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: