ছাতকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত অন্তত ৪০
Led Bottom Ad

ছাতকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আহত অন্তত ৪০

উজ্জীবক সুজন তালুকদার, ছাতক প্রতিনিধি

২৩/০৫/২০২৬ ২১:২২:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে; এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন লোক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৯ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর ও ভর্তি করা হয়েছে; এছাড়া ৯ জন ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) সকালের দিকে আমেরতল গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন এবং কফিল উদ্দিন পক্ষের লোকজনের মধ্যে এই প্রলয়ঙ্কারী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে; প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলন্ত এই রণক্ষেত্রে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা ও কর্তৃত্ব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল এবং এর আগেও একাধিকবার তাদের মধ্যে ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় বর্তমানে থানায় ও বিজ্ঞ আদালতে উভয় পক্ষের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কফিল উদ্দিনের ভাই এবং পূর্ববর্তী একটি মামলার পলাতক আসামি ফয়সাল আহমদ দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া থাকার পর আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে আসেন; এ সময় প্রতিপক্ষ মনির উদ্দিনের লোকজন তাঁকে দেখতে পেয়ে ধাওয়া করলে পুরো গ্রামজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গত শুক্রবার বিকেলেই দুপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামে মুখোমুখি অবস্থান নিলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাৎক্ষণিক মধ্যস্থতা করে সে যাত্রা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন; কিন্তু সেই উত্তেজনার জের ধরে শনিবার সকালে ফের উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন— তজন্মুল আলীর ছেলে আক্তার হোসেন (৫০), তৈয়ব আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম (৫৫), আবুল কালামের ছেলে শাহজাহান মিয়া (৬০), মুক্তার আলী (৫৫), আরজু মিয়ার ছেলে কেনু মিয়া (৩৫) এবং জমির উদ্দিনের ছেলে ছালেক মিয়া (২৩)।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "পূর্ব বিরোধ ও মামলা সংক্রান্ত জেরে আমেরতল গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে এবং খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।" বর্তমানে পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে আমেরতল গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad