রামিসা হত্যার বিচার ও নারী নির্যাতন বন্ধের দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন
“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”— এই প্রতিপাদ্য ও দৃঢ় অঙ্গীকারকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার এবং কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা বন্ধের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে জেলা শহরের সর্বস্তরের মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শনিবার দুপুরে শহরের ব্যস্ততম ও প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। যৌথভাবে এই কর্মসূচির ডাক দেয় ‘পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ’ (পিএফজি) সুনামগঞ্জ সদর শাখা এবং ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন)।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, নারী নেত্রী, শিক্ষক, মানবাধিকার কর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় আলফাত স্কয়ার এলাকা "রামিসা হত্যার বিচার চাই", "নারী নির্যাতন বন্ধ করো" ইত্যাদি স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সমাজে কন্যাশিশু ও নারীদের ওপর বর্বরতা ও সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শিশু রামিসার মতো অবুঝ শিশুকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে, তারা সমাজের শত্রু। আইনি জটিলতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। বক্তারা রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
সুজন উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট লেখক সুখেন্দু সেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— সুজনের নির্বাহী সদস্য ও ইসলামগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুজ আলী, সদর পিএফজির নারী অ্যাম্বাসেডর শাহীনা চৌধুরী রুবি, এবং পিস অ্যাম্বাসেডর সালেহিন চৌধুরী শুভ।
এছাড়াও মাঠপর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার শঙ্কা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সুবল, সাতগাঁও জিবদারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নোমান আহমদ, সিরাজুল ইসলাম পলাশ, সুজনের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আবু নাসার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হাছান আতাহেরসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা বাড়ি— কোথাও আজ কন্যাশিশুরা নিরাপদ নয়। রামিসা হত্যার বিচার যদি দ্রুত এবং দৃশ্যমান না হয়, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকেরা জানান, শুধু মানববন্ধনই নয়, নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এবং রামিসা হত্যার চূড়ান্ত বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাদের এই সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
প্রীতম দাস/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: