ভুমি দস্যু মিসবাউলের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতন ও স্বর্নালঙ্কার লুটের অভিযোগ
Led Bottom Ad

ভুমি দস্যু মিসবাউলের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতন ও স্বর্নালঙ্কার লুটের অভিযোগ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৮/০২/২০২৬ ২১:৩৯:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

একদিকে ছেলেকে গুমের অভিযোগ, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মেয়ের ওপর নির্যাতন, আর দেশে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হত্যাচেষ্টা—এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সিলেট নগরের আহমেদ হাউজিং এলাকার বাসিন্দা মিছবা উল ইসলাম ওরফে কয়েজের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নুরজাহান নিলু এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানা-এ একটি এজাহার দায়ের করেছেন। 


এজাহারে নুরজাহান নিলু দাবি করেন, মিছবা উল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। অতীতে কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে আবাসন নিয়ন্ত্রণে নেন এবং একাধিক বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালে পূর্বের বিবাহের তথ্য গোপন রেখে তিনি নুরজাহানের বড় মেয়ে জান্নাতুন নায়েম নিভাকে বিয়ে করেন। তাছাড়া দেশে এবং বিদেশেও মেয়ের জামাতা মিসবা উল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষণ মামলা রয়েছে। তিনি জানান, ছেলে নাদের মোর্শেদকে ব্যবহার করে বড়শালা এলাকার একাধিক সম্মানী মানুষের নামেও এই মিসবাউল ভুয়া মামলা করিয়েছে। 


নুরজাহান বেগম বলেন, দাম্পত্য জীবনে মেয়ের অগোচরে একাধিক বিয়ে ও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মিছবা। এমনকি বাসায় থাকা এক গৃহপরিচারিকার সাথে মিসবা উলের অশ্লীল দৃশ্য ধরা পড়ে মেয়ে জান্নাতুল নাঈম নিভার কাছে। এসব বিষয়ে মেয়ে কথা বলতে চাইলে মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মেয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যায়। কিন্তু সেখানেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, নুরজাহানের একমাত্র ছেলে নাদের মোর্শেদ তুহিনকে (২৯) বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ‘গুম’ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আগে সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।


নুরজাহান দাবি করেন, সম্প্রতি তিনি মেয়ের ফ্ল্যাটে অবস্থান শুরু করলে মিছবার নির্দেশে সহযোগীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তিনি বাসায় তালা দিয়ে বাইরে গেলে বিকেলে ফিরে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙা, ঘর তছনছ। তার মেয়ের বিয়ের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক ১৮ লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


এ ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয়।


এদিকে মিসবা উলের বাসায় নুরজাহান বেগমকে নির্যাতনের ঘটনার খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডিউটি অফিসার এসআই সেলিনা ও এসআই বিধান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। 


অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) -সৌমেন মিত্র ঘটনার সবিস্তার অবগত রয়েছেন। তিনি জানান, তদন্তকারী পুলিশ অফিসারতে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। একই সাথে নুরজাহান বেগমের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।  

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad