সিলেট বিভাগে বিএনপির ভূমিধস জয়: যাদের অবদান আলোচনায়
Led Bottom Ad

সিলেট বিভাগে বিএনপির ভূমিধস জয়: যাদের অবদান আলোচনায়

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৩/০২/২০২৬ ১৫:২৬:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট বিভাগজুড়ে ১৮টি আসনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভাগজুড়ে বইছে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। নেতাকর্মীদের চোখেমুখে আনন্দ, কণ্ঠে স্লোগান—‘এই জয় মানুষের, এই জয় তৃণমূলের।’








তবে এই ভূমিধস জয়ের পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি—সে প্রশ্নে দলীয় ভেতরে-বাইরে অনেকের নামই উচ্চারিত হচ্ছে। তবে দলীয় নেতারা কেউই একক কৃতিত্ব নিতে চান নি। তারা এই বিজয়কে সকল ভোটারদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান যাদের রয়েছে,তাঁরা হলেন  দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ একযোগে সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন। যার প্রভাব পড়েছে নির্বাচনে। সিলেটের বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন এই বিজয়ের সহযোদ্ধা। সবার লক্ষ্য একটাই-সিলেটের সবকটি আসনে বিএনপির বিজয়। এই যাত্রায় সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল,ছাত্রদল, তাঁতীদলসহ সাবেক নেতৃবৃন্দেরও ভূমিকা ছিল লক্ষনীয়।  


মনোনয়ন না পেয়েও মাঠের নেতৃত্ব

দলীয় সূত্র জানায়, মিফতাহ সিদ্দিকী নিজে সিলেট–৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে সাংগঠনিক ভারসাম্য ও কৌশলগত বিবেচনায় দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ার পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং দলীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে মাঠে নেমে পড়েন মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে।


নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি সভা–সমাবেশ, পথসভা, কর্মীসভা ও গণসংযোগে ছিলেন সরব। নগর থেকে গ্রাম, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন—তৃণমূল ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছেন দলের বার্তা। নেতাকর্মীরা বলছেন, তাঁর উপস্থিতি ছিল এক ধরনের প্রেরণা, যা কর্মীদের উজ্জীবিত করেছে নতুন উদ্যমে।


একজন তৃণমূল নেতা বলেন, “মনোনয়ন না পেয়েও যেভাবে তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন, তা আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। এই জয়ের প্রধান কারিগরদের একজন তিনি।”


বিএনপির জেলা ও মহানগর ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বের নিরলস পরিশ্রম


সিলেট জেলার পাঁচটি আসনে জয়ের পেছনে স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইউম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী দিনরাত মাঠে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তাদের সাথে সমন্বয় করেছেন জেলা ও মহানগরের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। 


দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী ঘোষণার পরপরই তারা ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক বৈঠক, কর্মী সমাবেশ ও সমন্বয় সভা করে নেতাকর্মীদের এক কাতারে আনেন। ভেতরের বিভক্তি দূর করে ঐক্যের বার্তা দেওয়া ছিল তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়াতেই ভোটের দিন সংগঠনের শক্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।


এ ছাড়া জেলার আরও বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন মাঠপর্যায়ে। প্রচারণা, ভোটার সংযোগ, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই ছিল সমন্বিত উদ্যোগ। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এই জয় কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও নিবেদনের ফল।


তৃণমূলের আবেগ

ফল ঘোষণার পর সিলেট নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় আনন্দমিছিল বের হয়। কর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলেছে এই ফলাফলে। অনেকেই মনে করছেন, এই বিজয় ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে।


দলীয় নেতারা বলছেন, এখন চ্যালেঞ্জ হলো এই জনসমর্থন ধরে রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। তাঁদের ভাষ্য, “ভোটের জয়ই শেষ কথা নয়; মানুষের আস্থা অর্জনই বড় অর্জন।”


সিলেট বিভাগজুড়ে বিএনপির এই ভূমিধস জয় তাই শুধু নির্বাচনী সাফল্য নয়—দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এটি ত্যাগ, ঐক্য ও সংগঠনের শক্তির এক প্রতীকী অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad