দেখার কেউ নেই
জগন্নাথপুরে বেড়িবাঁধের আড়ালে কুশিয়ারা নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রির হিড়িক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের অলইতলি এলাকায় হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে কুশিয়ারা নদীর তীর কেটে অবাধে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় নদীর তীর কেটে ডাম্পট্রাকে করে বাড়ি বাড়ি মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদীর পাড় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে বেড়িবাঁধের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে অলইতলি গ্রাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে কুশিয়ারা নদীর তীরের মাটি কাটা হচ্ছে। ডাম্পট্রাক দিয়ে সেই মাটি নিয়ে অলইতলি গ্রামের মহিম খাঁর বসতবাড়িতে ফেলা হচ্ছে। বেড়িবাঁধের নামে মাটি কেন বাড়ি নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের সদুত্তর দেননি ডাম্পট্রাক চালকরা। তবে স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির জমজমাট ব্যবসা চলছে।
২৩নং প্রকল্পের আওতায় এই বাঁধ নির্মাণের কাজ পেয়েছেন পাইলগাঁও ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নজমুদ্দীন। মাটি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাঁধে গিয়ে কাজ দেখুন। তবে মাটি বিক্রির বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জগন্নাথপুর উপজেলা কর্মকর্তা শেখ ফরিদ বলেন, “সরেজমিনে দেখে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।”
এদিকে হাওর বাঁচাও আন্দোলন, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: