পরিচ্ছন্নতা খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
সিসিকের পশুর হাট ইজারা: হাটের সংখ্যা কমায় অবৈধ হাটের শঙ্কা
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে ফের সমঝোতা ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে; এবার নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে হাটের সংখ্যা কমানো, তুলনামূলক কম মূল্যে ইজারা প্রদান এবং পরিচ্ছন্নতা খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো নিয়ে। সিসিক এবার মাত্র পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়ায়—যেখানে অতীতে সাত থেকে নয়টি পর্যন্ত হাট বসত—নগরীর শাহি ঈদগাহ, মদিনা মার্কেট, রিকাবিবাজার, কদমতলী, সুবিদবাজার ও উপশহর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্যোগে অবৈধ পশুর হাট বসার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইজারা দেওয়া হাটগুলোর মধ্যে দক্ষিণ সুরমার কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল হাট এবার মাত্র এক লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন নুরুল ইসলাম, অথচ গত বছর এই হাটের ইজারা মূল্য ছিল প্রায় চার লাখ টাকা; তবে এবার এই হাটে পরিচ্ছন্নতা বাবদ দেড় লাখ টাকা এবং ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা। একইভাবে নগরীর তেমুখী এলাকার পশুর হাট এক লাখ ২০ হাজার টাকায় মোরাদ হোসেনের নামে ইজারা নিয়েছেন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা উসমান হারুন পনিরসহ যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন সাবেক নেতা, যেখানে পরিচ্ছন্নতা খাতে আরও দেড় লাখ টাকা যোগ হয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। মিরাপাড়ার আব্দুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালি জায়গার হাট মাত্র ৩০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন কামরুল হাসান, যা এক লাখ টাকা পরিচ্ছন্নতা ব্যয় এবং অন্যান্য করসহ মোট এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামে ইজারা হয়েছে শাহপরাণ (রহ.) বাজার সংলগ্ন খালি জায়গার পশুর হাট, যা গত বছর ৮০ হাজার টাকায় ইজারা হলেও এবার রাজনৈতিক কর্মী এনামুল হক কুটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকায় নিয়েছেন এবং পরিচ্ছন্নতা খাত ও করসহ এর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া নতুন যুক্ত হওয়া দক্ষিণ সুরমার তেতলি এলাকার এসফল্ট মাঠের হাট ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন জেলা যুবদলের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক মকছুদুল করিম নুহেল, যার মোট ব্যয় কর ও পরিচ্ছন্নতা ফিসসহ প্রায় এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা।
সিসিকের বাজার তত্ত্বাবধায়ক আলবাব আহমদ জানিয়েছেন, এবার তালিকা থেকে মাছিমপুর কয়েদির মাঠ (যা থেকে গত বছর ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব এসেছিল) ও টিলাগড় পয়েন্টের হাট বাদ দেওয়া হয়েছে; ফলে এবার ৫টি হাট থেকে সিসিকের মোট ইজারা মূল্য ১৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং কর-পরিচ্ছন্নতাসহ সর্বমোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা, যা গত বছরের ৭টি হাটের মোট রাজস্ব (৫৬ লাখ টাকা) থেকে কম। সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত নিলামের বদলে রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে আগে থেকেই ইজারাদার নির্ধারণ করায় সিসিক বড় অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সিসিক প্রশাসক মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দাবি করেছেন, হাট কমলেও স্থায়ী কাজিরবাজার পশুর হাট থেকে এবার প্রথমবারের মতো রেকর্ড তিন কোটি টাকা রাজস্ব আসায় সব মিলিয়ে সিসিক লাভবানই হয়েছে এবং নগরীতে কোনো অবৈধ হাট বসানোর চেষ্টা করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কঠোর অভিযান চালানো হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: