গোয়াইনঘাটে কোটি টাকার সড়ক হরিলুট: শেষ না হতেই উঠছে কার্পেটিং!

গোয়াইনঘাটে কোটি টাকার সড়ক হরিলুট: শেষ না হতেই উঠছে কার্পেটিং!

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়াইনঘাট

০২/০৬/২০২৬ ১৯:১৭:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের গোয়াইনঘাটে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে চলছে হরিলুট আর দুর্নীতির মহোৎসব। উপজেলার খাইরাই-বঙ্গবীর হাদারপার জিসি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ না হতেই পলেস্তারা ওঠার মতো উঠে যাচ্ছে পিচ ও কার্পেটিং। সংস্কারের কয়েকদিন পার না হতেই সড়কের কঙ্কাল বেরিয়ে আসায় প্রশ্ন উঠেছে কাজের মান এবং স্থানীয় এলজিইডি অফিসের নজরদারি নিয়ে। উন্নয়নের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই অপচয়কে ‘রাস্তা সংস্কার’ নয় বরং ‘প্রকাশ্য লুণ্ঠন’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।

নির্মাণশৈলী নয়, যেন দুর্নীতির মহড়া


২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দে ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায় মেসার্স হাবিব এন্ড সন্স। তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন করছেন সাব-ঠিকাদার ও রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ার সুবাদে এলজিইডির নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নিম্নমানের বিটুমিন ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হতে না হতেই বঙ্গবীর পয়েন্ট থেকে পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।


সরেজমিনে সড়কের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও সাব-ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ দিয়েছেন এক অদ্ভুত ও হাস্যকর যুক্তি। তার দাবি, অনিয়ম নয় বরং "গরুর গোবর, মূত্র এবং গাছের ডাল থেকে পড়া পানির কারণে" কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কার্পেটিং উঠে গেছে। ঠিকাদারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অজুহাতকে সাধারণ মানুষের সাথে উপহাস ও দুর্নীতির আড়ালে ধৃষ্টতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


কাজের শুরু থেকেই ‘নয়-ছয়’ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন রুস্তুমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব। তিনি এই অনিয়মের জন্য ঠিকাদারের পাশাপাশি উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে (এলজিইডি) সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তার মতে, কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি থাকলে ঠিকাদারের পক্ষে জনস্বার্থের এই সড়ক নিয়ে এমন লুটপাট করা সম্ভব হতো না।


অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহমেদ ঠিকাদারের গাফিলতির কথা স্বীকার করলেও 'বৃষ্টির মধ্যে তাড়াহুড়ো'র দোহাই দিয়েছেন। তবে কাজ পুরোপুরি মেরামতের আগে বিল প্রদান না করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী প্রথম সিলেটকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও জনমনে সংশয় কাটছে না। এলাকাবাসীর দাবি, কেবল ‘মেরামত’ নয়, বরং এই জঘন্য দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা বৃষ্টির মৌসুম শুরু হলেই এই সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হবে এবং গচ্চা যাবে জনমতের ট্যাক্সের ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন: