লামাকাজিতে ব্রিজের ওপর বালু রেখে অবৈধ ব্যবসা

চরম ঝুঁকিতে যানবাহন ও পথচারী

লামাকাজিতে ব্রিজের ওপর বালু রেখে অবৈধ ব্যবসা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০২/০৬/২০২৬ ২২:৪১:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের সোনালী বাংলা বাজার ব্রিজের ওপর পাকা সড়ক ও ব্রিজের একটি বড় অংশ দখল করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বালু স্তূপ করে রেখে ব্যবসা করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে; দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের ওপর এভাবে বালুর বিশাল স্তূপ ও আড়ত গড়ে তোলায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন সাধারণ পথচারী ও দূরপাল্লার যানবাহনের চালকরা। ব্রিজের ওপর এমন অবৈধ দখলের কারণে সড়কের প্রশস্ততা কমে সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত ব্যস্ততম বিশ্বনাথ-সিঙ্গেরকাছ-সোনালী বাংলা বাজার সড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের প্রায় অর্ধেক জায়গাজুড়ে দিনরাত বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে; যার ফলে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য জরুরি যানবাহনগুলো চরম সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক পথ দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি করছে। এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্রিজের ওপর কে বা কারা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু রেখে প্রকাশ্যে ব্যবসা করে আসছে, অথচ তাদের কেউ কিছু বলছে না; আমরা যখন সাধারণ যাত্রী নিয়ে এই ব্যস্ত ব্রিজটি পার হই, তখন সবসময় উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকিতে থাকতে হয় এবং যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

নিত্যদিনের এই ভয়াবহ ভোগান্তি ও চরম ঝুঁকি থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে স্থানীয় চালক, যাত্রী ও সাধারণ পথচারীরা অবিলম্বে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করে জনস্বার্থে অবৈধ বালুর আড়ত উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন; তাঁদের সুনির্দিষ্ট ভাষ্য— ব্রিজের ওপর এভাবে বালু রাখার কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সড়ক ব্যবহারে চরম বিঘ্ন ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হওয়াসহ সামগ্রিক জননিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় লামাকাজি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ব্রিজের ওপর বালু স্তূপ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে ব্যবসা করার বিষয়টি এর আগে আমার সুনির্দিষ্টভাবে জানা ছিল না; তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে কেউ যদি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ব্রিজের ওপর এভাবে বালু রেখে অবৈধ ব্যবসা করে থাকে, তবে খোঁজ নিয়ে তদন্তপূর্বক অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, সরকারি সম্পদ দখল ও জনভোগান্তির বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি প্রশাসনের কঠোর আইনি অবস্থানের কথা জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারি সড়কের কোনো ব্রিজের ওপর বা পাবলিক প্লেসে এভাবে বালু রেখে ব্যক্তিগত ব্যবসা করার কোনো ধরনের আইনগত সুযোগ বা অনুমতি কারোরই নেই; এই অবৈধ বালু ব্যবসার বিষয়টি এর আগে আমাদের প্রশাসনের কাছে কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে অবহিত করেননি। আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তহশিলদারের মাধ্যমে বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করছি এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন: