সিলেটে ‘এমেক্স এসোসিয়েটস’ এর প্রতারক ইমন আটক

সিলেটে ‘এমেক্স এসোসিয়েটস’ এর প্রতারক ইমন আটক

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০২/০৬/২০২৬ ২১:৫৩:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

উন্নত দেশে উচ্চ বেতনে পাঠানোর লোভনীয় ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক ভিসা প্রতারক সিন্ডিকেটের মূল হোতা ইমন উদ্দিন অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দী হয়েছে; আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জামিন নিতে এসে প্রতারণার শিকার ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীদের তোপের মুখে পড়ে সে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সাধারণ জনতা তাকে আদালত চত্বরেই হাতেনাতে আটক করে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে ইমন উদ্দিন অত্যন্ত গোপনে ও চতুরতার সাথে আদালতে আগাম জামিনের প্রার্থনা করতে এলে সেখানে ওত পেতে থাকা প্রতারণার শিকার কয়েকজন দূরদর্শী ব্যক্তি তাকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হন; এরপর মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ থেকে ভুক্তভোগীরা তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং ধাওয়া দিয়ে আটক করে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের টহল দলের হাতে তুলে দেন। ভুক্তভোগী তরুণদের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত অভিযোগ— সিলেট মহানগরীর অভিজাত উপশহর এলাকায় অবস্থিত ‘এমেক্স এসোসিয়েটস’ (Amex Associates) নামের একটি নামসর্বস্ব ভুঁইফোড় কনসালটেন্সি ও ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মূল হোতা ইমন উদ্দিন ও তার সংঘবদ্ধ সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যবিত্ত পরিবারের সরলতার সুযোগ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও কানাডায় পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকার এক বিশাল জালিয়াত সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে আইনি ও আকর্ষণীয় ভুয়া ভিসা প্রাপ্তির নান্দনিক ভিডিও এবং পেইড প্রচারণা চালিয়ে দেশের বেকার ও উচ্চাভিলাষী তরুণ-যুবকদের অবলীলায় আকৃষ্ট করত; এমনকি মাত্র ১ হাজার টাকার নামমাত্র প্রসেসিং ফিতে শতভাগ নিশ্চয়তায় কানাডার আকর্ষণীয় পিআর (PR) ভিসা এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে কোনো প্রকার আইইএলটিএস (IELTS) ছাড়াই ইউরোপের শেনজেনভুক্ত বিভিন্ন দেশে পাঠানোর অবিশ্বাস্য প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলত।

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ভুক্তভোগীদের একাংশ কান্নায় ভেঙে পড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান যে, এই চতুর চক্রটি সিলেট অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৭০০ জন স্বপ্নবাজ ও সরল তরুণ-যুবকের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও ফাইল জমার নামে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে অগ্রিম আদায় করেছে; এবং সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী সরল এই যুবকদের কাছ থেকে তারা অন্তত ৭ কোটি টাকা সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে বলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের দাবি। এদিকে এই বিশাল আর্থিক প্রতারণার রোমহর্ষক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গত মাসে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হওয়ার পর চারদিকে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়; যার জের ধরে গত ১৯ মে গভীর রাতে কুখ্যাত ‘এমেক্স এসোসিয়েটস’-এর উপশহরস্থ বিলাসবহুল প্রধান কার্যালয়ে তড়িঘড়ি করে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে প্রধান হোতা ইমন ও তার সহযোগীরা রাতারাতি আত্মগোপনে চলে যায় এবং একই সাথে তাদের প্রতারণার মূল হাতিয়ার ফেসবুক পেজ ও অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটিও চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতারিত যুবকরা উপায় না দেখে পরবর্তীতে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সরাসরি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য তথা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর দপ্তরে নিয়ে সশরীরে দেখা করলে মন্ত্রী বিষয়টির ভয়াবহতা অনুধাবন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং যুবকদের টাকা উদ্ধারে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জরুরি ও বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেন। অন্যদিকে, মূল হোতা ইমন উদ্দিন গ্রেপ্তার হলেও তার অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত সহযোগী জাবের আহমদসহ এই চক্রের অন্য কুখ্যাত সক্রিয় সদস্যরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে বা বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনো মুহূর্তে দেশত্যাগের চূড়ান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন; তারা অবিলম্বে এই চক্রের বাকি সব সদস্যদের পাসপোর্ট জব্দ করে দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ চাঞ্চল্যকর এই ভিসা প্রতারককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, “উপশহরের ‘এমেক্স এসোসিয়েটসের’ প্রধান হোতা ইমন নামের এক অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীরা আমাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং আমরা তাকে সুনির্দিষ্ট জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজই বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করছি; ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের যে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পেছনের সত্যতা ও বাকি আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করতে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীর তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুতই এই চক্রের বাকি হোতাদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন: