‘স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়নে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’

প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

‘স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়নে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে’

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৪/০৬/২০২৬ ০৯:৩২:৪২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় স্বাস্থ্যখাতের টেকসই আধুনিকায়ন ও আমূল পরিবর্তনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে; তবে যেকোনো হাসপাতালের দৃশ্যমান অবকাঠামোগত ও কারিগরি উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের মানবিক সেবার মানসিকতা ও রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গতকাল বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কুদরত-উল্লাহ রোড সংলগ্ন সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের মূল সভাকক্ষে আয়োজিত সার্বিক চিকিৎসা সেবা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির দূরদর্শী বক্তব্যে সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব আশাপ্রদ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সিলেটের এই ঐতিহ্যবাহী ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামগ্রিক আধুনিকায়ন, চিকিৎসা প্রযুক্তির সংযোজন এবং সেবার পরিধি বহুগুণ বাড়াতে আমরা ইতিমধ্যেই নানামুখী টেকসই ও যুগোপযোগী মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, যা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে; আমাদের একমাত্র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হতে হবে যে, এই স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন কেবল সামান্য টাকার অভাবে বা চিকিৎসার খরচের ভয়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বিন্দুমাত্র বঞ্চিত না হয়।”

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই পুণ্যভূমি সিলেট অঞ্চলের সাধারণ, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগের সুচিকিৎসার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত ভরসাস্থল হিসেবে অবদান রেখে চলেছে; বিশেষ করে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্থানীয় দানশীল মানুষের নিঃস্বার্থ ও অকাতর সহযোগিতায় এই অঞ্চলের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর ও আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, “এখানে দূরদূরান্ত থেকে যে সমস্ত সাধারণ ও প্রান্তিক রোগীরা প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন, তারা যেন কেবল প্রেসক্রিপশন বা রাসায়নিক ওষুধ নয়, বরং কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের অত্যন্ত আন্তরিক, মানবিক ও হাসিখুশি ব্যবহারের মাধ্যমেও মানসিকভাবে অর্ধেক সুস্থতা বোধ করতে পারেন; আমি এই হাসপাতালের সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও বেশি পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সেবামূলক মনোভাবের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”

সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির সম্মানিত সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এম এ আহবাবের গাম্ভীর্যপূর্ণ সভাপতিত্বে এবং ডা. আব্দুল মোক্তাদির কোরেশী সুমনের অত্যন্ত কুশলী ও প্রাণবন্ত পরিচালনায় আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন সিলেটের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। এ সময় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির অন্যতম সহ-সভাপতি ডা. শিব্বির আহমদ শিবলী, ডা. মো. শামীমুর রহমান, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, সিলেটের প্রবীণ সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, সমিতির কোষাধ্যক্ষ এম এ মান্নান, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ সুমন বণিক, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মো. আলতাফুর রহমান, মো. সিদ্দিকুর রহমান অ্যাডভোকেট, মো. মুজিবুর রহমান শওকত, এ কে এম আহাদুস সামাদ, বশিরুল হক, এ এইচ এম মোস্তাকিম চৌধুরী, দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক, মো. নাসিম হোসেন, মো. ইমরান চৌধুরী, ডা. শামীম আহমদ, মো. হিজকিল গুলজার, তোফায়েল খান, এজাজ আহমদ চৌধুরী, মাহবুবুর রব চৌধুরী, জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন, সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পুসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সিসিকের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: