মৌলভীবাজারে বখাটের উৎপাতে বিষপান: ৭ দিন পর মারা গেল কিশোরী মীম
এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হেরেই গেল ১৫ বছরের কিশোরী মীম আক্তার। বখাটের অনবরত উত্ত্যক্তকরণ ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে নিজের স্বপ্নময় জীবনকে বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছে মাধবপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এই ছাত্রী। শুক্রবার (২২ মে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। এর ফলে নিভে গেল তার সকল আগামীর স্বপ্ন, স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবার।
তবে মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে মীম তার ওপর হওয়া নির্মম অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অকাট্য জবানবন্দি দিয়ে গেছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দেওয়া তার শেষ বক্তব্যে উঠে এসেছে আত্মহননের পেছনের মূল অভিযুক্তের নাম।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষপানের পর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা মীম মৃত্যুর ঠিক আগে তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ দেয়। তার দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযোগের তীর সরাসরি লেগেছে কমলগঞ্জ উপজেলাধীন আদমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাবিল গ্রামের পচন মিয়ার ছেলে সানুয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে। মীম স্পষ্ট করে বলে গেছে, সানুয়ারের ক্রমাগত উত্ত্যক্ত ও বিষপানে প্ররোচিত করার কারণেই সে এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।
মীমের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। একটি বখাটের কারণে এভাবে একটি ফুটফুটে মেয়ের জীবন চলে যাবে—তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রয়াত মীমের পরিবার জানায়, "সানুয়ার দীর্ঘদিন ধরে মীমকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। লোকলজ্জা আর অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আমার মেয়ে বিষপান করে। আমরা এই খুনি বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
এই ঘটনার পর প্রয়াত কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত সানুয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সানুয়ারকে আইনের আওতায় এনে যেন এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়, যাতে আর কোনো মীমকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: