দুশ্চিন্তায় খামারিরা
সিলেটে পশুর হাটে গরু বেশি,ক্রেতার উপস্থিতি কম
ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র তিন দিন। সিলেটে ইতিমধ্যে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার জেলা ও সিটি করপোরেশন মিলিয়ে হাটের সংখ্যা বেশ কমে গেছে। আর অনুমোদিত হাটের সংখ্যা কম থাকায় প্রতিটি হাটেই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই, কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে কোরবানির পশুতে। বাজারে পশুর এমন পর্যাপ্ত আমদানি থাকলেও এখনো আশানুরূপ ক্রেতা মিলছে না। বাজারে সাধারণ দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও আসল বিকিকিনি জমে না ওঠায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। অনেকে লোকসানের আশঙ্কায় এক হাট থেকে অন্য হাটে পশু নিয়ে ছুটছেন। তবে হতাশার কথা হলো, হাটের সংখ্যা কম থাকার সুযোগে বিক্রেতারা পশুর দাম কিছুটা বেশি হাঁকছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। খামারিদের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, বাজারে পশুখাদ্যের দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
আজ সোমবার নগরের ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজার গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের গরুতে পুরো হাট ঠাসা। কিন্তু সেই তুলনায় প্রকৃত ক্রেতা অনেক কম। হাটে আসা কুষ্টিয়ার খামারি ফারুক মিয়া আক্ষেপ করে জানান, পাঁচ মাস আগে অনেক আশা নিয়ে ১০টি গরু কিনেছিলেন। ভেবেছিলেন ঈদে বিক্রি করে দুটো পয়সা লাভ করবেন, কিন্তু হাটের যে অবস্থা তাতে লাভ তো দূরের কথা, গরুর আসল টাকাই তুলতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন। একই রকম শঙ্কার কথা জানান ঋণ নিয়ে তিনটি গরু হাটে তোলা খামারি বাতেন মিয়া ও লালমনিরহাটের কুদ্দুস মিয়া। তাঁরা বলেন, পশু অবিক্রিত থেকে গেলে তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, হাটে গরু পছন্দ হলেও বিক্রেতারা দাম ছাড়ছেন না, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি গরুর দাম আকাশচুম্বী। তবে শেষ মুহূর্তে এসে পশুর দাম কমতে পারে—এমন আশায় বুক বেঁধেছেন ক্রেতারা। ফলে অনেকেই এখন গরু না কিনে দরদাম ও বাজার যাচাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কার্যালয় জানিয়েছে, এ বছর সিলেটে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৮টি, যার বিপরীতে প্রস্তুত আছে ১ লাখ ৭... হাজার ৯৬৫টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় চার হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ বছর জেলা ও সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট ৬৭টি অনুমোদিত হাট বসেছে। প্রতিটি হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং গর্ভবতী গাভী শনাক্তকরণে বিশেষ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে এবং পাশাপাশি ডিজিটাল কেনাবেচার সুবিধাও রাখা হয়েছে। এদিকে খামারিদের আরেকটি বড় ভয় সীমান্তপথে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ।
এ বিষয়ে র্যাব-৯-এর অধিনায়ক মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুমোদিত ২৪৫টি পশুর হাট চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এবং ভারতীয় গরু পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় র্যাবের টহল ও তৎপরতা কঠোরভাবে জোরদার করা হয়েছে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: