গোয়াইনঘাটে কাভার্ড ভ্যানসহ ভারতীয় পণ্য ছাড়িয়ে নিতে মরিয়া পলাতক আসামী মাসুক
সিলেটের গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের অভিযানে কাভার্ড ভ্যানসহ বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য ছাড়িয়ে নিতে মরিয়া গোয়াইনঘাটের অন্যতম চোরাকারবারী মাসুক উদ্দিন। তিনি জব্দকৃত মালামাল ছাড়িয়ে নিতে শালুটিকর পুলিশ ফাঁড়িতে একাধিকবার যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে জানান, জব্দকৃত মালামাল ছাড়িয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
অভিযুক্ত মাসুক উদ্দিনও পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগের বিষয়টি ‘প্রথম সিলেট’ কে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার কাভার্ড ভ্যানচালক ০২নং পশ্চিম জাফলং ইউপির পেনাইকোনা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে ইকরামুল হক রানা (২০) পূর্ব পরিচিত থাকার কারণে সুপারিশ করতে গিয়েছি।
জানাগেছে,গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ রাতে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল এলাকায় অবৈধ চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত ছিল। রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় কসমেটিকস ও চকলেটের একটি বড় চালান নিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-০৪৪৭) সিলেটের দিকে আসছে। সংবাদ পেয়ে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জিত চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের পূর্ব আঙ্গারজুর এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন গাড়িটি দ্রুত গতিতে চেকপোস্টের কাছে এলে পুলিশ সেটিকে থামার সিগন্যাল দেয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িতে থাকা একজন ব্যক্তি দ্রুত নেমে দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ ধাওয়া করে গাড়ির চালক ইকরামুল হক রানাকে (২০) আটক করতে সক্ষম হয়।
তল্লাশিকালে কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় 'Pringles' ব্যান্ডের চিপস/চকলেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ১৮টি করে মোট ৩২৪টি কার্টুন এবং প্রতি কার্টুনে ১২টি করে পণ্য রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ির চালক ইকরামুল হক রানা জানান, জব্দকৃত মালের প্রকৃত মালিক গোয়াইনঘাটের বাঘের খাল গ্রামের মাসুক আহমেদ (৩৫)। ঘটনার সময় মাসুক আহমেদই গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যান বলে চালক স্বীকার করেছেন।
জানাগেছে ঘটনার গোয়াইনঘাট সীমান্তের গডফাদার সীমান্তবর্তী হাতিরখাল গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দিন কালা ওরফে 'শ্যাম কালা' বাহিনীর প্রধান সহযোগী মাসুক আহমেদ। যিনি অভিযানকালে কাভার্ডভ্যানে ছিলেন। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। এই চক্রের সাথে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীরও গভীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মোঃ সিদ্দিক খলিফা জানান, গ্রেফতারকৃত চালক ও পলাতক আসামী দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য সীমান্ত এলাকা থেকে এনে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল। এই ঘটনায় পলাতক আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনাকারী দলে আরও উপস্থিত ছিলেন এসআই মোঃ শাহাব উদ্দিন খান, কনস্টেবল ইমরান চৌধুরী ও কনস্টেবল রিয়াদ হোসেন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: