সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় নার্সসহ আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৭৮
সিলেট বিভাগে হাম ও নিউমোনিয়া পরিস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে; গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক তরুণী নার্স এবং এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন করে আরও ৭৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ জনে।
সোমবার (১ জুন) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৯টার দিকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে ২২ বছর বয়সী এক নার্সের মৃত্যু হয় এবং এর আগে রোববার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মামুন আহমদের এক শিশুর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে ল্যাব পরীক্ষায় মোট ১৬৫ জনের হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে সুনামগঞ্জে ৮৬ জন, সিলেটে ৪২ জন, হবিগঞ্জে ২১ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে যে ৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৪ জন, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত সর্বমোট ২৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৩ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জনসহ অন্যান্য হাসপাতালে বাকিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য পরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে এবং একই সময়ে ল্যাব-নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ৪ জন, যার ফলে সব মিলিয়ে হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে ঠেকেছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: