সিসিকের ৪, ৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত আসনে একঝাঁক সম্ভাব্য নারী প্রার্থী
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত নারী আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে রয়েছে নানা নাগরিক সংকট। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অবহেলিত অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং নারী সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাঠে নেমেছেন একঝাঁক তরুণ ও অভিজ্ঞ নারী কাউন্সিলর প্রার্থী। আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখী তৎপরতায় এখনই নগরীর এই অংশে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিয়ে আসছেন। এখন চলছে পাড়া-মহল্লায় জনসংযোগ ও ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, জাতীয় রাজনীতিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোর তাগিদ দিচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। আর এই তাগিদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অন্দরমহলের নির্বাচনী তৎপরতা আরও বেগবান হয়েছে।
সিসিকের ৪, ৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে এবং যারা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন, তারা হলেন—নাসরিন আক্তার,চিনু আক্তার,শামীমা আক্তার সাথী,আদিবা জান্নাত খান তুষি,মোছাঃ রুনা বেগম,দেওয়ান ফারজানা ইয়াসমিন তানিয়া,সারা বেগম ঝর্ণা
নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সম্ভাব্য নারী প্রার্থীরা তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং ওয়ার্ডবাসীকে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের শামীমা আক্তার সাথী বলেন, "আমরা শুধু নামেমাত্র জনপ্রতিনিধি হতে চাই না। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি ঘরে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত নারী সমাজের অধিকার রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যেকোনো বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা নিজেদের উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। ওয়ার্ডের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আমরা ওয়ার্ডবাসীকে সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করতে চাই।"
তারা আরও যোগ করেন, "জনগণ যদি আমাদের সুযোগ দেয়, তবে এই সংরক্ষিত আসনটিকে সিসিকের একটি রোল মডেল এবং একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব।
একাধিক স্থানীয় ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখানে জলাবদ্ধতা, মশা নিধন ও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। তাই এবার ভোটাররা এমন একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান, যিনি শুধু ভোটের সময় নয়, বরং সুখে-দুঃখে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন। প্রার্থীদের এই আগাম তৎপরতা ও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনেও নতুন আশার আলো সঞ্চার করছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: