বালাগঞ্জে দয়ামীর-দেওয়ান বাজার সড়কে দায়সারা সংস্কার

কাদা-পানির ওপর কার্পেটিংয়ের অভিযোগ

বালাগঞ্জে দয়ামীর-দেওয়ান বাজার সড়কে দায়সারা সংস্কার

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৫/০৬/২০২৬ ২১:৪৫:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দয়ামীর-দেওয়ান বাজার সড়কের মাদরাসা বাজার থেকে মোরার বাজার অংশে চলমান সংস্কার কাজ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, রাস্তা খুঁড়ে কাদা ও জমে থাকা পানির ওপর কার্পেটিং এবং অপরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে স্রেফ লোক দেখানো কাজ করা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ভেঙে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


স্থানীয়দের মতে, শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান নিয়েই নয়, বরং এই প্রকল্পের নকশা ও এস্টিমেট প্রস্তুতকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় গর্ত, ভাঙন ও দুর্বল বেইজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এই সড়কে টেকসই সংস্কারের পরিবর্তে যদি শুধুমাত্র উপরি-তল বা নামমাত্র সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে, তবে তার দায় এস্টিমেট প্রস্তুতকারী প্রকৌশলীও এড়াতে পারেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন কার্পেটিং খুঁড়ে অনেক স্থানে পলিমাটি দিয়ে রোলার করা হচ্ছে। বড় বড় গর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও জমে থাকা কাদা ও পানির মধ্যেই কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। চলমান এই সংস্কার কাজের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে সরকারি অর্থ ব্যয়ের নামে নিছক ‘দায়সারা কাজ’ বলে মন্তব্য করেছেন।


জানা গেছে, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর—এই দুটি উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি পশ্চিমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দয়ামীর বাজার এবং পূর্বে সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের মোরার বাজারকে সংযুক্ত করেছে। প্রতিদিন হালকা ও ভারীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়কে চলাচল করে থাকে। বিশেষ করে মাদরাসা বাজার থেকে মোরার বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের পাশে দুটি বাজার, গহরপুর জামেয়া, দেওয়ান আব্দুর রহিম দ্বি-পাক্ষিক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং হযরত শাহ সুলতান মাদরাসাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।


দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ ফ ম শামিম এবং গহরপুর জামেয়ার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কায়ুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক সংস্কারে কোনো মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। এভাবে কাজ চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই আবারও গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হবে। জনগণের স্বার্থে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্কার কাজ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, যদি প্রকল্পের এস্টিমেট ও কারিগরি পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, তাহলে এমন নিম্নমানের সংস্কারের সুযোগ থাকত না। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে এস্টিমেট প্রস্তুতকারী প্রকৌশলীর ভূমিকাও তদন্ত করা প্রয়োজন।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজমির শরীফ প্রথম সিলেটকে বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংস্কার কাজ চলছে, অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়। বৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, তবে পানি সরে গিয়ে শুকিয়ে গেলে কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সম্প্রতি সড়কের এই সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন।


তবে সরকারি কর্মকর্তার এমন আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শুধু নামমাত্র পরিদর্শন নয়, প্রকল্পের নকশা, এস্টিমেট ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এই নিম্নমানের সংস্কার কাজ কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গিয়ে সরকারি অর্থ অপচয়ের এক নতুন নজির সৃষ্টি করবে।


মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: