তীব্র গরমে সিলেটজুড়ে তালের শাঁসের ধুম: চাহিদা ও দামে রেকর্ড
জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে পুরো সিলেট অঞ্চল। কয়েক দিন ধরে চলা টানা গরম আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই অসহ্য গরমে শরীর ও মনে একটু স্বস্তি ও সতেজতা ফেরাতে সিলেটের সাধারণ মানুষের কাছে কচি তালের শাঁসের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। মধুমাসের প্রধান আকর্ষণ আম, লিচু ও কাঁঠাল বাজারে আসার আগেই সিলেটের পথঘাট ও হাটবাজার দখল করে নিয়েছে এই রসালো ও সুস্বাদু ফল।
সিলেট নগরীর বিভিন্ন মোড়, উপজেলার হাটবাজার এবং গ্রামীণ জনপদ ঘুরে দেখা গেছে, কচি তালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন শত শত মৌসুমি ব্যবসায়ী। শুধু স্থায়ী দোকানই নয়, ভ্যানগাড়ি বা সাইকেলে করে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরেও তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
সিলেট মহানগরের কোর্ট পয়েন্ট, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, উপশহর, শিবগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। শুধু মহানগরীই নয়—জৈন্তাপুর, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলা সদর ও গ্রামীণ বাজারগুলোতেও তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় গাছগুলো থেকে ফল সংগ্রহের পাশাপাশি চাহিদা মেটাতে বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও প্রতিদিন হাজার হাজার কচি তাল সিলেটে আসছে।
গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালের শাঁসের চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা এখন দম ফেলার ফুসরত পাচ্ছেন না। একজন মাঝারি মানের বিক্রেতা প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০টি তাল বিক্রি করছেন।
আকার ও শাঁসের মানভেদে প্রতিটি তাল ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে (যার ভেতরে ৩ থেকে ৪টি শাঁস বা ‘চোখ’ থাকে)। কোনো কোনো এলাকায় প্রতি পিস শাঁস আলাদাভাবে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী স্বপন চন্দ্র শীল বলেন, "অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরমের তীব্রতা অনেক বেশি। মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে তালের শাঁসের জুড়ি নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি করেও আমরা ক্রেতাদের চাহিদা শেষ করতে পারছি না। লাভও বেশ ভালো হচ্ছে।"
তালের শাঁস কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, তীব্র গরমে এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে চিকিৎসকরা অত্যন্ত ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।
সিলেটের স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, তালের শাঁস অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। গরমে শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) দূর করতে এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স বা লবণের ঘাটতি বজায় রাখতে এই ফল বিশেষ ভূমিকা রাখে। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। শতভাগ প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় সব বয়সী, বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের কাছে এটি এখন এক দারুণ পথ্য হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম কোমল পানীয়র চেয়ে এই গরমে তালের শাঁস খাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ ও উপকারী।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: