হবিগঞ্জে পর্যটনের নতুন আকর্ষণ আজমিরীগঞ্জের জলসুখা সেতু
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নির্মিত হয়েছিল সেতুটি। তবে সময়ের ব্যবধানে সেটি এখন আর শুধু পারাপারের মাধ্যম নয়, পরিণত হয়েছে স্থানীয় মানুষের বিনোদন ও দর্শনীয় স্থানে। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ‘জলসুখা সেতু’ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সেই ভিড় এখন আরও কয়েক গুণ বেড়েছে।
সরেজমিনে বিকেলে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে এবং ওপরের অংশজুড়ে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নানা বয়সী দর্শনার্থীরা সময় কাটাচ্ছেন এখানে। কেউ মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন। খোলামেলা পরিবেশ ও চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বিশেষ করে টিকটক ও ফেসবুক রিলস নির্মাতাদের কাছে সেতুটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আজমিরীগঞ্জের বাসিন্দা রুবেল হাসান পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে বলেন, ‘নতুন সেতুটি খুবই সুন্দর হয়েছে। ছবি তুলে আর আড্ডা দিয়ে বেশ ভালো সময় কাটল।’ ঢাকা থেকে ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসা কল্পনা আক্তার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেতুটির ছবি দেখেছিলাম। বাস্তবে এসে আরও বেশি ভালো লাগছে।’
দর্শনার্থীদের এই ভিড়কে কেন্দ্র করে সেতুর আশপাশে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ভ্রাম্যমাণ দোকান। আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, ফুচকা ও চায়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সবুর মিয়া নামের এক চা-বিক্রেতা জানান, সেতুটি হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন বিশেষ করে বিকেলে ভালো বিক্রি হচ্ছে। ছুটির দিনগুলোতে আইসক্রিমের চাহিদাও কয়েক গুণ বেড়ে যায় বলে জানান বিক্রেতা সেলিম জমাদার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেতুর কারণে এলাকার পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় নিরাপত্তা ও যান চলাচলের শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। বানিয়াচং থেকে আসা জহির আহমেদ বলেন, ‘ছুটির দিনে ভিড় অনেক বেড়ে যায়। কিছুটা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা থাকলে সবাই আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারত।’
স্বপন রবি দাশ / ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: